
বিভিন্ন পণ্য আমদানির আড়ালে মাদকদ্রব্য আমদানির ঘটনা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। জরুরি পণ্য আনার কথা বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশি-বিদেশি মাদক আমদানিকারকরা একজোট হয়ে এসব অপকর্ম করছেন। এনবিআরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মাদক কারবারি চক্র বৈধ আমদানির আড়ালে কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখকে ফাঁকি দিতে প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল ও রুট পরিবর্তন করছে। আটক মাদক, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কনটেইনার বা কার্গো জাহাজে করে মাদকের বড় বড় চালান দেশে ঢোকানো হয়েছে। গত অর্থবছরে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে শতাধিক চালানে আমদানিকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৭৫৩ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য আটক করেছে। কাগজে-কলমে এসব পণ্যের দাম ১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা দেখানো হয়েছিল। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে জাল ও ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে এই পরিমাণ অর্থ পণ্যের দাম হিসেবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এনবিআরের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা যায়।
সরকার পরিবর্তন হলেও এখনো অপরাধী চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি আটকাতে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্ক গোয়েন্দাদের নিয়মিত কর্মকর্তাদের বাইরে অতিরিক্ত গোয়েন্দার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, বেশ কিছু আমদানিকারক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেছে, কাগজে-কলমে যার কোনো অস্তিত্ব নেই। এনবিআরের তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ৮৭ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের খোঁজ করলেও তাদের একজনেরও সন্ধান মেলেনি। মাদক আমদানির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ বলেন, বহু বছর ধরে সিন্ডিকেট করে মাদক আমদানি করা হচ্ছে। অতীতে তদন্তে দেখা গেছে, এ কাজে দেশি-বিদেশি চক্র জড়িত থাকে। এরা এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বন্দরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অসাধু ব্যক্তিদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে নিজের স্বার্থে কাজে লাগায়। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি বন্ধ করতে হলে এসব অসাধু ব্যক্তিকেও চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা হচ্ছে মাদক। আসলে এর অগোচরে কৌশলে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ভুয়া আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বন্দরের অসাধু কর্মকর্তা যারা এ কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আঞ্চলিক মাদক পাচার ও অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বিনিময়েরও যে সুপারিশ করেছে এনবিআর, তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আরও কঠোর হবে, এটাই কাম্য।
