বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ২০২৬
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
সব ক্ষেত্রে সুশাসন জরুরি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৭ এএম |

সব ক্ষেত্রে সুশাসন জরুরি
বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস বা ১৮০তম দিন পূর্ণ হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্বনেওয়ার পর ঘোষিত অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ শেষ হচ্ছে এ সময়ে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অগ্রগতি বিবেচনায় সরকারের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। প্রথম ছয় মাসের সরকারের আলোচিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রান্তিক কৃষকের ঋণ মওকুফ, সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ, খাল পুনর্খনন, বৃক্ষরোপণ, সরকারি ব্যয়ে সংযম, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনে জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ। সরকারের দাবি, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
এ সময়ে সরকার অর্থনীতির ক্ষত সারিয়ে তুলতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বৈশ্বিক সংকট চরম আকার ধারণ করে। বিশেষ করে গ্যাসসংকটে স্থবির হয়ে পড়ে শিল্পকারখানা। এ ছাড়া গত দুই বছরে শিল্প খাতে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ বেকার হয়েছেন। আবার অনেক কারখানায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। অনেক কারখানা থেকে বায়ারদের অর্ডার অনুযায়ী সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এতে ওই সব প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া আগের সব ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। এ সংকট চলতে থাকলে আরও অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মূল্যস্ফীতির হার কমলেও বাজারে তার প্রভাব কম রয়েছে। সরকার বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলেও বাজারে তার প্রভাব সীমিত বলে মনে করছেন খুচরা বিক্রেতারা। সর্বশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, জুনে যা ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের সার্বিক মূল্যস্ফীতি গত ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় পণ্যের যে উচ্চ মূল্যস্তর তৈরি হয়েছে, মূল্যস্ফীতির হার কমলেও তা দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। এ কারণে মূল্যস্ফীতি কমার পরও সাধারণ মানুষের বাজারে তেমন স্বস্তি মিলছে না; বরং জুলাইয়ে মাসিক ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যসূচক ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। ওই মাসে খাদ্যপণ্যের দাম মাসিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের তুলনায় জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। এখনো মূল্যস্তর অনেক ওপরে রয়েছে। মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ রয়েছে। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বাজারব্যবস্থার ত্রুটি দূর করে মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে চলতি অর্থবছরে সরকার যে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি সংকটকাল অতিক্রম করছে। অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী, রাজস্ব আদায়ের এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এনবিআরের জন্য রাজস্ব আদায়ের এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণকে বর্তমান সরকারের উচ্চাভিলাষী সিদ্ধান্ত বলে অনেকেই মনে করছেন। এ লক্ষ্যমাত্রার ওপর নির্ভর করে আয়-ব্যয় উন্নয়নের সূত্র আঁকা হলে অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হবে।
বর্তমান সরকার আর্থিক বা অন্যান্য খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে সরকারের ছয় মাসে সেই অর্জন এখনো সফলতার মুখ দেখেনি। চারদিকে অর্থনীতির ক্ষত সারাতেই সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে আসার কথা হলো, পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক পতনের ধারা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে উত্থান দেখা দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অস্থিরতা কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। বাংলা কিউআর কোড চালু, শিক্ষা খাতের ফি কার্ডে পরিশোধসহ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এটি সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আশা করছি, সরকার দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনীতির ক্ষত সারাতে ব্যবস্থা নেবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২