গ্রামীণ
ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে
কুমিল্লার বাঙ্গরায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও দেশবরেণ্য ল্যাপারোস্কোপিক
সার্জন অধ্যাপক ডা. পি. কে. সাহার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ‘মুরাদনগর
উপজেলা বিসিএস ক্যাডার অফিসার্স ফোরাম’-এর সহযোগিতায় শুক্রবার এ
ব্যতিক্রমধর্মী স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সূচনা হয়। স্বর্গীয় রাজমোহন সাহা ও
তাঁর সহধর্মিণী মাখন বালা সাহার পুণ্যস্মৃতি স্মরণে উপজেলার শ্রীকাইল
ইউনিয়নের চন্দনাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই ক্যাম্পটি শনিবার
পর্যন্ত চলবে।
অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে
এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২৩ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই
মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন ঢাকা শমরিতা হাসপাতালের
প্রখ্যাত কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. পি. কে. সাহা। বিগত দুই দশকের
ধারাবাহিকতায় এবারও ক্যাম্পটি ঘিরে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক
উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের মূল
উদ্যোক্তা অধ্যাপক ডা. পি. কে. সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি
ছিলেন, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান
বিভাগের সদস্য সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান, শাহ গ্রুপ ও টিএএস গ্রুপের
চেয়ারম্যান, ইয়েমেনের অনারারি কনসাল জেনারেল কে. এম. মুজিবুল হক, জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খন্দকার নুরুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
(ভারপ্রাপ্ত) সাকিব হাছান খান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব ডা. আমির হোসেন,
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ
আবুল কালাম আজাদ খান, বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ শফিউল আলম।
অনুষ্ঠানে
অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুরাদনগর উপজেলা বিসিএস ক্যাডার
অফিসার্স ফোরামের সদস্য ইব্রাহিম খলিল, ডা. আব্দুস সাত্তার বেগ, মেহেদী
হাসান, মাহমুদুল হাসান, মোস্তফা কামাল, তাসলিমা আক্তার ও নাইমুর রহমান,
বিআরটিএ কুমিল্লার সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ মামুন এবং ৪৫তম বিসিএসে
সুপারিশপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তা রাকিব হোসেন (প্রশাসন) ও ফকরুল ইসলাম
(সাধারণ শিক্ষা)।
আয়োজকরা জানায়, দুই দিনব্যাপী এই বিশেষ আয়োজনে
শ্রীকাইল ও আশ-পাশের কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারও সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে
অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা
এবং প্রাথমিক ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকদের মূল
লক্ষ্য প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে
একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা।
