সিঙ্গাপুরে
জটিল অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে সুস্থ দেহে
মাতৃভূমিতে ফিরেছেন ধর্মমন্ত্রী আলহাজ¦ কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন
কায়কোবাদ। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
থেকে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে রওনা হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্য ও
ঘনিষ্ঠ শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। মন্ত্রীর পারিবারিক সূত্র
দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা
যায়, দীর্ঘদিন ধরেই মন্ত্রী আলহাজ¦ কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ হিপ
জয়েন্টের নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের
পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি শীর্ষস্থানীয়
বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রখ্যাত অর্থোপেডিক সার্জনদের
তত্ত্বাবধানে তাঁর হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অস্ত্রোপচারের
পর সম্ভাব্য সব ধরনের ইনফেকশন ও জটিলতা এড়াতে তাঁকে দীর্ঘদিন চিকিৎসকদের
নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। শরীর মানিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে চিকিৎসকদের
তত্ত্বাবধানেই তাঁর ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন শুরু হয়।
বর্তমানে
ধর্মমন্ত্রী শারীরিকভাবে অনেকটাই সুস্থ ও সবল বোধ করছেন। চিকিৎসকদের
ছাড়পত্র ও নির্দেশনা মেনে তিনি ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্বে স্বাভাবিকভাবে
হাঁটাচলাও শুরু করেছেন। তবে এখনই পুরোদমে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত
না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের নির্ধারিত চার্ট, খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধ সম্পর্কিত
পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চলছেন তিনি। আপাতত কিছুদিন চিকিৎসকদের নির্দেশে তিনি
নিবিড় বিশ্রামে থাকবেন এবং বাড়ি থেকেই সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয়
দিকনির্দেশনা দেবেন।
এদিকে ধর্মমন্ত্রীর অসুস্থতা ও অস্ত্রোপচারের খবর
ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশের নানা প্রান্তে সাধারণ
মানুষ ও আলেম-ওলামাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা যায়। তাঁর পূর্ণ আরোগ্য ও
দীর্ঘায়ু কামনায় দেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন
করেন।
বিশেষ করে পবিত্র শুক্রবারসহ বিভিন্ন দিনে রাজধানীর বায়তুল
মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের প্রধান প্রধান মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
দেশে
ফিরে নিজের সুস্থতার পেছনের মহান আল্লাহর অশেষ রহমত এবং দেশবাসীর এই
ভালোবাসা ও আন্তরিক প্রার্থনার কথা স্মরণ করে ধর্মমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের
সদস্যরা দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন।
