কুমিল্লার
আদর্শ সদর উপজেলার পাচথুবী ইউনিয়নের গোলাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় প্রায় দুইশ
বছরের পুরোনো একটি মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতারের
বেড়া নির্মাণের পর মসজিদটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মুসল্লিদের প্রবেশ কার্যত
বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ঐতিহাসিক এই মসজিদটি বর্তমানে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায়
পড়ে আছে।
স্থানীয়দের দাবি, মসজিদটি মোগল আমলে নির্মিত। দীর্ঘদিন ধরে
গোলাবাড়ী এলাকার মানুষের ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এটি।
সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও বিভিন্ন সময়ে
এখানে নামাজ আদায় করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে
ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর এ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে সীমান্ত চিহ্নিত করতে বিভিন্ন স্থানে সীমান্ত পিলার স্থাপন
করা হয়। গোলাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ২০৮২ নম্বর সীমান্ত পিলার রয়েছে।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সময় মসজিদটি বেড়ার ভেতরে পড়ে
যায়। ফলে মসজিদে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যায়। একসময় যে মসজিদে
স্থানীয় মানুষ নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন, বর্তমানে সেখানে প্রবেশ করাই কঠিন
হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সীমান্তের দুই পাশে একই এলাকার মানুষ
বসবাস করলেও কাঁটাতারের বেড়ার কারণে তাদের মধ্যে স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ
রয়েছে। বিশেষ করে মসজিদটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি
স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের বাইরে রয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিবির নায়েক
সুবেদার আবু জাফর বলেন, “মসজিদটি মোগল আমলে নির্মিত বলে জানা যায়। এটি
গোলাবাড়ীর একটি ঐতিহাসিক মসজিদ ছিল। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কারণে উভয়
দেশের মুসলিমদের জন্য মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মসজিদটি
পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কেউ এটি খোলার সাহস করেন না।”
স্থানীয়
বাসিন্দাদের দাবি, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মসজিদটি
সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রায় দুইশ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী এই
মসজিদটি এখন কাঁটাতারের বেড়ার আড়ালে নীরব পড়ে আছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা,
সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অক্ষুণ্ন রেখে ঐতিহাসিক
মসজিদটির বিষয়ে একটি মানবিক ও কার্যকর সমাধান বের করবে সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষ।
