মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর ।।
পরিবারের
মুখে একটু চেনা হাসি ফোটানো আর সুন্দর এক আগামীর স্বপ্ন বুকে নিয়ে দেশ
ছেড়েছিলেন ২০ বছরের তরুণ নাজমুল সরকার। কিন্তু প্রবাসজীবনের ঘামঝরা
সংগ্রামের করুণ এমন পরিণতি হবে, তা কল্পনাও করেনি কেউ। সিঙ্গাপুরে
কর্মস্থলে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারিয়েছেন
কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
নিহত
নাজমুল দৌলতপুর গ্রামের শাহজাহান সরকারের বড় ছেলে। ৪ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়
হওয়ায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইসিস) বাবার সংসারের হাল ধরতে প্রায় ৪ বছর
আগে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সোমবার সকালে কাজ করার সময় এক
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নাজমুল সরকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর চাচাতো
ভাই সেলিম সরকার।
নাজমুলের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই বাড়ির
আঙিনা ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের আহাজারিতে। অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী ও পরোপকারী
হিসেবে পরিচিত এই তরুণের আকস্মিক প্রয়াণে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর
শোকের ছায়া।
বাবার চিকিৎসার খরচ চালানো আর ছোট ভাইদের আগামীর পথ সুগম
করার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন, তা নিভে গেল এক নিমিষেই।
পেছনে রেখে গেছেন স্বজনদের চোখের জল আর কখনো পূরণ না হওয়া কিছু অধরা
স্বপ্ন।
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা নাছিমা বেগম।
কাঁদতে কাঁদতে প্রলাপ বকছেন আর সরকারের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন শেষবারের মতো
যেন ছেলের নিথর মুখখানা দেখার ব্যবস্থা করা হয়। নাজমুলের মরদেহ দ্রুত দেশে
ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় শুভাকাঙ্খী ও
এলাকাবাসী নাজমুলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং এই কঠিন সময়ে
শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
করেছেন।
