কুমিল্লার
দেবিদ্বারে আলোচিত ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে
পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, নগদ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিতেই
পরিকল্পিতভাবে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত
থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি
দিয়েছে প্রধান আসামী লাইলী আক্তার। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর
নির্দেশ দেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ
(ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
ওসি জানান, আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
দিয়েছে প্রধান আসামী লাইলী আক্তার। তাকে তিনদিনের রিমাণ্ড শেষে আদালতের
মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর লাইলী আক্তারের দেওয়া
তথ্যে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গত পাঁচ দিনে ১৪টি পলিব্যাগে
ভর্তি ফরিদা ইয়াসমিনের প্রায় অর্ধশত খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর
মধ্যে মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ রয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত
দুটি দা, নিহতের পরনের স্বর্ণালংকার-একটি গলার চেইন, এক জোড়া কানের দুল ও
একটি আংটি এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে কাঠের গুঁড়ির ওপর
রেখে দা দিয়ে মরদেহের বিভিন্ন অংশ খণ্ডিত করা হয়েছিল, সেটিও উদ্ধার করা
হয়েছে। তবে লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্যে যাদের নাম এসেছে, তাদের কাউকেই এখন
পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি। এদিকে, প্রধান আসামী লাইলী আক্তারের
স্বীকারোক্তিতে পাওয়া বাকি তিন অভিযুক্ত আসামীকে ৬দিন পার হলেও গ্রেপ্তার
করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (১৩
আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির দাবিতে দেবিদ্বার থানার প্রধান ফটকে ঘেরাও করে এলাকাবাসী। এসময়
তাঁরা থানা ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে নিউ মার্কেট স্বাধীনতা চত্বরে
সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তাঁরা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিয়াম ইসলাম,
আরশাদ বাবু, জহিরুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন, কাজী নাছির, নাজমুল হাসান,
হানিফ, রাসেল আহম্মেদ ও মিরাজুল ইসলাম। জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট দেবিদ্বার
পৌর এলাকার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভূঁইয়া হাউজের বাসিন্দা
ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তারা ভাড়াটে লাইলীসহ ঘাতকরা। পরে
লাশের পরিচয় গোপন রাখতে তাঁর মাথা ও মুখের চামড়া ছুলে অবয়ব নষ্ট করে এবং
মরদেহ বিভিন্ন অংশ খণ্ড-খণ্ড করে ১১ টি পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছন ও ডোবায়
ফেলে রাখে। এই ঘটনার পর দিন ফরিদা ইয়াসমিনকে কোথাও না পেয়ে ভাড়াটে লাইলী
আক্তারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে এলাকাবাসী। এর আগেও ২০২১ সালে
আমির হোসেন ও লাইলী আক্তারকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় পাঁচ বছরের শিশু
ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যা করে শিশুটির বাবা আমির হোসেন ও তার পরকীয়া
প্রেমিকা লাইলী আক্তার। ঘটনার সাত দিন পর পুলিশ ফাহিমার অর্ধগলিত মরদেহ
উদ্ধার করে।
