বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ফেল করা শিক্ষার্থীরাই দেশকে ‘নক্ষত্রের পথে উড়িয়ে নেবে’: শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ এএম |



এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন গড় পাসের হার নিয়ে ফল প্রকাশের পর ফেল করা শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবার গড় পাশের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি।
এই শিক্ষার্থীরাই দেশকে ‘নক্ষত্রের পথে উড়িয়ে নেবে’ মন্তব্য করে এ যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার নিজের ফেইসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “তোমার জীবনের গল্প আজ শেষ হয়নি; একসময় দেখবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এখনো লেখা হয়নি। অনেক দিন পরে যখন তুমি জীবনে সফল হবে সেখানে দিন আজকের দিকে তাকিয়ে দেখো মনে হবে অযথাই তুমি হতাশ হয়েছিলে।
“আমি বিশ্বাস করি তোমরা একদিন এই দুর্ভাগা দেশকে নক্ষত্রের পথে উড়িয়ে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তোমাদের সেই যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তোমাদের পাশে আছে, ছিল, থাকবে।”
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের উদ্দেশে কিছু কথা বলার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে দেওয়া এ পোস্টে তিনি বলেন, “আজকের দিনটি তোমাদের জন্য খুবই বেদনার আর হতাশার। বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের নীরবতা, আর নিজের ভেতরের অস্বস্তি, সব মিলিয়ে মনে হতে পারে সবকিছু বুঝি থেমে গেল। না থামেনি। কিছুই থামেনি।
“আজকের ফলাফল তোমার পরিচয় নয়, সেটি কেবল পরীক্ষার সেই নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় তোমার খাতায় লেখার একটা হিসাব মাত্র। তোমার পরিশ্রম, তোমার স্বপ্ন, এসবের কোনো নম্বর হয় না।”
ফল প্রকাশের পরের সময়টা যে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কষ্টের তা নিজেও অনুভব করছেন তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রতিবেশীর কৌতূহল, আত্মীয়ের তুলনা, সহপাঠীদের উপেক্ষা সব মিলিয়ে তোমাদের উপরে হয়তো এক গভীর হতাশা ভর করেছে।”
এর আগের দিন সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সোয়া ১৮ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
এ ফলের বিস্তারিত তুলে ধরতে সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ফল ভালো হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মন্ত্রী।
১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হারকে ‘খারপ ফল’ মন্তব্য করে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আপনি খারাপ বলছেন কেন? ফলতো ভালো হয়েছে।”
পরদিন মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, স্কুলগুলো শিক্ষক সংকটে থাকায় এ ফলকে তিনি ভালো মনে করছেন। একই দিন ফেল করা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য এল।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভয় পেতে হয় বাবা-মায়ের মুখোমুখি হতে, এ কথা তুলে ধরে অভিভাবকদের তাদের বকাঝকা বা ভর্ৎসনা না করে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি লেখেন, “এই মুহূর্তে আপনার একটি কঠিন বাক্য, উপেক্ষা, ভর্ৎসনার চাইতে দরকার একটু আদর, স্নেহময় কথা। ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন।”
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়েছে, সেই কারণ খুঁজে বের করা শিক্ষকদের দায়িত্ব। একটি শিক্ষার্থীর ব্যর্থতার দায় শুধু তার নিজের নয়; এর সঙ্গে অন্যদেরও দায়িত্ব রয়েছে।”














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২