বাংলাদেশ
ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-(কুবি) শাখা কতৃক আয়োজিত
নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২
আগস্ট) কুমিল্লার ফানটাউন রিসোর্টে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সাধারণ সম্পাদক
সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির।
অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান
ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের
বায়োকেমিস্ট্রি এ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ
আতিয়ার রহমান।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক হাফেজ
ইউসুফ ইসলাহী; কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আব্দুল মোহাইমেন; কেন্দ্রীয়
মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো. নোমান হোসেন নয়ন এবং কেন্দ্রীয়
প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা৷ কোরআন তিলাওয়াত
এবং লালমাই থিয়েটারের পরিবেশনায় ইসলামী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
উদ্বোধনী
বক্তব্যে সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ
থেকে শুরু করে যারাই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের
স্মরণ করছি। ইসলামী ছাত্রশিবির তোমাদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। তোমরা অনেক
পরিশ্রম করে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এখানে এসেছো। জুলাই
গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা একটি সুন্দর ক্যাম্পাসের স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমরা
চেয়েছিলাম ক্যাম্পাসে গেস্টরুম, গণরুমের কালচার চলবে না। ক্যাম্পাসে কোন
বড়ভাইয়ের রাজনীতি চলবে না। নিজের ক্যারিয়ারের দিকে ফোকাস করতে হবে। বড়ভাই
কারো ক্যারিয়ার ঠিক করে দিতে পারে না।’
অনুষ্ঠানে লোকপ্রশাসন বিভাগের
নবীন শিক্ষার্থী নূসরাত জাহান বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন
শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। আমার এই সাফল্যের পেছনে
আমার পরিবার, শিক্ষক মণ্ডলী ও কাছের বন্ধুদের অবদান রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে
একটি সুস্থ বাংলাদেশ ও মুক্তভাবে কথা বলার স্বাধীনতার জন্য তরুণ
শিক্ষার্থীরা প্রাণ দিয়েছেন, যা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের
এই প্রোগ্রামে এটাই আমার প্রথম উপস্থিতি এবং তাদের শিক্ষার্থী-বান্ধব
কার্যক্রম আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের
ব্যবস্থা করায় আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। ক্যারিয়ার গাইডলাইন নিয়ে তারা
আমাদের যে পরামর্শ দিয়েছে, আমি চেষ্টা করব ভবিষ্যতে সেগুলো ধারণ করতে।
অন্যায়ের সামনে নতি স্বীকার না করে আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”
প্রধান
বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামিস্ট্রি এ্যান্ড
মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান বলেন- “তোমরাই আগামীর
বাংলাদেশের রূপকার। শুধু ভালো ফলাফল নয়, দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা, সততা ও
নৈতিকতা অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ডিগ্রি অর্জনের জায়গা হিসেবে
না দেখে নিজেকে একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শারীরিক ও মানসিক
স্বাস্থ্যের পাশাপাশি বই পড়ে নিজের চিন্তার জগতকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
ক্যারিয়ারের
সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনে নয়, দেশের জন্য কতটা অবদান রাখতে পারলে
সেখানেই এর সার্থকতা। তোমাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা যেন দেশের মানুষের
কাজে লাগে, সেই প্রত্যাশাই করি।জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ তোমরাই
গড়ে তুলবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ক্যারিয়ার বিষয়ক গাইডলাইন
প্রদান করেন এবং বর্তমান বিশ্বের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সমন্বয় করার
কথা বলেন। তিনি বলেন, “আজকের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স অনুষ্ঠানে এসে
আমার খুব ভালো লেগেছে। আমরা চাই, নবীন শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট অর্জন
না করে নৈতিকতা, মেধা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলুক। সমৃদ্ধ
বাংলাদেশ গড়তে হলে আগে সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মানুষ তৈরি করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, ভালো
মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়তে হবে। আমরা
ক্যাম্পাসে সহিংসতার পরিবর্তে মেধা, জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতার
পরিবেশ চাই। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের
আহ্বান নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলুন এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য অবদান
রাখুন।”
এ ছাড়াও তিনি ছাত্রশিবির, ক্যারিয়ার ও বাংলাদেশ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন
