কসবা
প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা
কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলার বিলঘর সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
কুমিল্লা
সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও
কুমিল্লাস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.
এমদাদুল হক সোহাগ ভূঁইয়ার ব্যবস্থাপনায় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ
জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লার পরিচালনায় এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের
সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছানি রোগী বাছাই, চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয়
ওষুধ প্রদান এবং লেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।
বিলঘর সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি হাজী নুরুল
ইসলাম নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস।
শফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ
অতিথি ছিলেন কসবা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফ আলী, কসবা প্রেসক্লাবের
সভাপতি আবুল খায়ের স্বপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বিলঘর সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউল হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য
রাখেন শাহ আলম, আরো বক্তব্য রাখেন সার্জেন্ট (অব.) ফেরদৌস ওয়াহিদ,
সার্জেন্ট (অব.) হুমায়ুন কবির, আইয়ুব সরকার, রোশন আলী সরদার, সাবেক মেম্বার
কবির আহমেদ ও রফিকুল ইসলাম ভূইয়া।
উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেম্বার জহিরুল
ইসলাম, তোফাজ্জল আলী, মুজিবুর রহমান ভূইয়া, ফোরকান উদ্দিন প্রমুখ। এ সময়
সেবাগ্রহীতা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী
এ চিকিৎসা কার্যক্রমে বিলঘর ও আশপাশের এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ
বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। অরবিস ইন্টারন্যাশনালের
সহযোগিতায় রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
চিকিৎসকদের
পরীক্ষায় ছানি রোগে আক্রান্ত ৩২ জন রোগীকে বাছাই করা হয়। তাদের বাংলাদেশ
জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লায় পাঠিয়ে অরবিসের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ
বিনামূল্যে লেন্স প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হবে বলে আয়োজকরা জানান।
প্রধান অতিথি মুহাম্মদ ইলিয়াস এ ধরনের মানবিক ও
জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন,
দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার এ উদ্যোগ অত্যন্ত
প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও মানুষের কল্যাণে এ
ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজক মো. এমদাদুল হক
সোহাগ ভূঁইয়া বলেন, এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু
চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থের অভাবে যেন কোনো
মানুষ চোখের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও এ
ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
