
কুমিল্লা
শিক্ষা বোর্ড থেকে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পেয়ে এখনও পর্যন্ত
বোর্ডের চতুর্থ স্থানে রয়েছে জাকিয়া সুলতানা ইভা। এই ফলাফলে খুশি জাকিয়া,
তার পরিবার সহপাঠি ও স্কুলের শিক্ষকরা। জাকিয়া সুলতানা ইভা কুমিল্লার
দেবিদ্বার উপজেলার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে
২০২৬ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায়
পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নিয়েছেন। সে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ
ইউনিয়নের বারুর গ্রামের মোহাম্মদ জামাল হোসেনের বড় মেয়ে। তার বাবা ও মা
শাহিনুর আক্তার দুজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।
মঙ্গলবার
(১১ আগস্ট) দুপুরে নিজের মাকে নিয়ে প্রিয় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও
সহপাফিদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন জাকিয়া। এসময় সে বলেন, আমি কখনই বেশি একটা
পড়েনি, মা বাবাও লেখা পড়ার জন্য শাসন বা চাপ দেয়নি, তবে যতুটুকুই পড়েছি মন
দিয়ে পড়েছি। বিশেষ করে আমি প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করে ফেলতাম, কালকের
জন্য জমিয়ে রাখেনি। আমি এত ভালো রেজাল্ট করব এটা কোনদিনদিনও ভাবিনি। এর
কৃতিত্ব প্রথমে আমার বাবা মা ও আমার বিদ্যলয়ের সব শিক্ষকদের। আসলে আমার কোন
প্রিয় শিক্ষক নেই, বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই আমার প্রিয়। শিক্ষকরা যদি আমাকে
সহযোগিতা না করত আমি কখনই এতো ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম না। জাকিয়া নিজের
স্বপ্নের কথা বলেন, আমার অনেক ইচ্ছা আমি একজন ডাক্তার হবো, জানি এটা খুব
চ্যালেঞ্জ, তবুও আমাকে ডাক্তার হতে হবে। ডাক্তার হয়ে প্রথমে আমি আমার
গ্রামের মানুষের সেবা করব। মা বাবার চেয়ে কে সেরা প্রশ্নের উত্তরে জাকিয়া
একটু ভেবে বলেন, আমার কাছে আমার মা-ই সেরা, মা আমার দুষ্টুমি থেকে শুরু করে
সব কিছুতেই সাপোর্ট দিতো। আমি বলব আমার রেজাল্টের পিছনে আমার অবদান অনেক
বেশি। জাকিয়া আরও বলেন, ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ পেয়ে এখনো পর্যন্ত ৪র্থ
স্থানে রয়েছি। আমি এই ধারাটা যেন অব্যাহত রাখতে পারি সবার নিকট দোয়া চাই।
জাকিয়ার
মা শাহীনুর আক্তার বলেন, আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, যা আশা
করেছিলাম তার চেয়ে বেশি হয়েছে। সে রাত দিন অনেক কষ্ট করেছে, আমি ও তার
বাবাও অনেক কষ্ট করেছে। তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও অনেক পরিশ্রম করেছেন।
সবার সহযোগিতায় সে একটা ভালো ফলাফল করেছে।
আমি তাকে কোন দিনও পড়ার জন্য
চাপ দেয়নি, আমি সব সময়ই বলতাম, ‘আম্মু পড়া লেখা করার চেয়ে আগে ভালো মানুষ
হও’। তারা বেচে থাকলে কিছু না কিছু করতে পারবে কিন্তু ভালো মানুষ হওয়া আগে
জরুরি। সে তার সহাপাঠিদের অনেক সহযোগিতা করতো, সন্ধ্যার পর ওর অনেক
সহহপাঠি আমার কাছে ফোন করে ওর সঙ্গে লেখা পড়ার বিষয়ে কথা বলতো, আমি কোনদিনই
বিরক্ত হয়নি, আমি বলেছি তুমি সবাইকে সহযোগিতা করবা।
দেবিদ্বার মফিজ
উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর
রহমান বলেন, জাকিয়া সুলতানা ইভাক্লাসেও অনেক পরিশ্রম করেছে।আমি আগেই টের
পেয়েছি সে ভালো কিছু করবে। তার এই সাফল্যে আমরা বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক
অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি
ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক দোয়া করছি।
চলতি
বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় কুমিল্লা
শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ বছর এই বোর্ডে জিপিএ-৫
পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক
৬০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৯০২ জন। সে হিসাবে এবার পাসের হার
বেড়েছে।
