
নিজস্ব
প্রতিবেদক: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে
কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে নৃত্য, গান, কবিতা ও
কথামালায় সাজানো এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য অনুষ্ঠান। সংস্কৃতি বিষয়ক
মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত, আবৃত্তি ও
আলোচনা পর্বের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের প্রতি গভীর
শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
রবিবার (৯ আগষ্ট) সন্ধ্যায় একাডেমি মিলনায়তনে
আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল
ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা কালচারাল অফিসার এস.এম.টি কামরান হাসান।
বিশেষ
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবুল
হাসানাত বাবুল, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. নাহিদুজ্জামান রানা,
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কুমিল্লা মহানগরের সিনিয়র
সহ-সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ পল্লব, দক্ষিণ জেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক
জাহাঙ্গীর আলম এবং কুমিল্লা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপক
নিখিল চন্দ্র রায়সহ বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।
আলোচনা পর্বে বক্তারা
বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের একজন কবি নন, তিনি ছিলেন
মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতিশীল চেতনার অন্যতম পথপ্রদর্শক। তাঁর
সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও সমাজকে অন্যায়, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে
সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মাদক,
সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প
নেই। রবীন্দ্রচর্চা মানুষের মননকে শুদ্ধ করে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত
করে। তারা উল্লেখ করেন, চলমান নজরুল বর্ষের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ও কাজী
নজরুল ইসলামের চেতনার এক সুন্দর মেলবন্ধন সমাজকে আরও আলোকিত করতে পারে।
অনুষ্ঠানে
স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসঙ্গীত, নৃত্যনাট্যের অংশবিশেষ এবং
কবিতাপাঠ। মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে
অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
শেষে বিশ্বকবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং সম্মিলিত রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
