ইসমাইল নয়ন।।
কুমিল্লার
ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বামীর বাড়ির লোকজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং
আত্মহত্যার প্ররোচনায় সেলিনা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ
উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় চারজনকে অভিযুক্ত
করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের
সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সেলিনা আক্তার উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের দক্ষিণ
চান্দলা (চারিপাড়া) এলাকার আবু জাহের ও জুলেখা বেগম দম্পতির মেয়ে। তিনি একই
ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া (উত্তরপাড়া) এলাকার মো. হোসেনের স্ত্রী। ১০ বছর আগে
পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ছয় বছর বয়সী আব্দুর রহমান
নামের একটি সন্তান রয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই
বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামীর বাড়ির লোকজন সেলিনা আক্তারের ওপর
মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে
তিনি এসব সহ্য করে যান। গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে
পারিবারিক কলহের জের ধরে অভিযুক্তরা সেলিনাকে বেধরক গালিগালাজ ও নির্যাতন
করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের একপর্যায়ে ঘর থেকে কীটনাশক এনে তাঁর
সামনে রেখে তাঁকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়া হয়। এতে ক্ষোভ ও অভিমানে
সেলিনা ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন।
পরে আশপাশের লোকজন ও স্বজনেরা তাঁকে
উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট তাঁকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর
একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হলে
ওই দিন বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা
হয়েছে নিহতের স্বামী মো. হোসেন (৪৫), শ্বশুর মো. রেনু মিয়া (৬০), শাশুড়ি
মোসা. জাহেনারা বেগম (৫৫) এবং ননদ মোসা. সাবিনাকে (২৫)। নিহতের মা জুলেখা
বেগম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় এ লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন,
"অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
