সারা
দেশের সাড়ে তিন দফা দাবিতে কুমিল্লার দেবিদ্বারে সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে দেবিদ্বার উপজেলার
প্রায় ১৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যত বন্ধ রয়েছে। আগামী সোমবার
(১ ডিসেম্বর) থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও দাবি বাস্তবায়ন না হলে
পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। রাতের মধ্যে সরকার দাবি
পূরণে কার্যকর সিদ্ধান্ত না দিলে আগামীকাল সোমবার শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক
পরীক্ষা বর্জন করা হবে বলেও জানান কর্মবিরতি থাকা শিক্ষকরা।
এদিকে
বার্ষিক পরীক্ষার সময় কর্মবিরতি কর্মসূচী দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন
অভিভাবকরা। তাঁরা বলেন, বার্ষিক পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের কর্মবিরতি
কর্মসূচী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
তোফায়েল হোসেন
নামে এক অভিভাবক বলেন, আজ বার্ষিক পরীক্ষা এই সময়ে এসে শিক্ষকরা ক্লাসে
পাঠদান বন্ধ রেখেছে, পরীক্ষা হবে কিনা তাও অনিশ্চিত। এভাবে আন্দোলন করে
শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নেই। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ
হচ্ছে।
কর্মবিরতি পালন করা শিক্ষকরা জানান, গত শনিবার প্রাথমিক শিক্ষক
দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে
আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আশ্বাসের পর ১৮ দিন পার হয়েছে। অদ্যাবধি তিন দফা
দাবির মধ্যে আপাতত ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি ও অন্যান্য দাবি
বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষক
দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বানে গত ২৭ নভেম্বর সারা দেশের প্রায় সব
বিদ্যালয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করার জন্য সব
সহকর্মীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আমাদের প্রিয় সহকর্মী শহীদ ফাতেমার
আত্মত্যাগ ও দুই শতাধিক সহকর্মীর রক্ত বৃথা যেতে দেব না। তাদের দাবিগুলো
হলো, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ; ১০ ও ১৬ বছর
পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান এবং সহকারী শিক্ষক
থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। কর্মবিরতি প্রত্যাহারের
অনুরোধে গত ২৭ নভেম্বর আন্দোলনরত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ডিপিইর
মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। তিনি বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন না করার
আহ্বান জানান। তবে শিক্ষক নেতারা বলেন, দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পাওয়া
পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
