লালমাইয়ে ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়লো কৃষকের স্বপ্ন
Published : Thursday, 21 April, 2022 at 12:00 AM
প্রদীপ মজুমদার ||
ধার দেনা করে দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান বুনেছিলেন কৃষক জাহাঙ্গীর আলম । আশা ছিল, এই ফসল থেকেই কেটে যাবে সারা বছর। কিন্তু ইটভাটার গ্যাসে তার সেই ধান পুড়ে গেছে। সেই সঙ্গে শেষ হয়েছে তার স্বপ্নও।
শুধু জাহাঙ্গীর আলম নয়, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের আজবপুর গ্রামে তার মতো অনেক কৃষকের স্বপ্নই পুড়েছে ইটের ভাটা থেকে নির্গত ওই বিষাক্ত গ্যাসে। প্রায় ৫০ বিঘা জমির বোরো ধান ওই গ্যাসের প্রভাবে পুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এর প্রভাব ওই এলাকার সব ধরনের গাছের ওপরও পড়েছে। ঝরে পড়ছে গাছের কাঁচা পাতা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার ৫০ জন কৃষক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি পরিদর্শন করেন কৃষি বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে।
সরেজমিনে জানা যায়,আজবপুর গ্রামে গড়ে ওঠেছে এল এস বি নামের ইটের ভাটা। যা তিন ফসলি জমির ওপর। যে ধান গুলো পুড়ে গেছে তার পাশেই এলএসবি বিক্স নামে ইটের ভাটার অবস্থান।
বেশির ভাগ কৃষক ধার দেনা করে ফসল ফলান সেই ধান বিক্রি করে মানুষের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করে দুই পয়সা লাভের স্বপ্ন দেখেন। এল এস বি ইটভাটার নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ায় সে স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।
কৃষক আবুল কাশেম বলেন, বহু কষ্ট করে ধান চাষ করেছি। লাভ তো দূরের কথা এখন খরচের টাকা নিয়ে চিন্তিত। ইটভাটার গ্যাসের কারণে আমার মতো এলাকার বহু কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে সেই দায়ভার কে নিবে? সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, ইট পোড়ানোর কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ভাটার কিলিনে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেন। এর পর পরই এলাকার বাতাস উত্তপ্ত হয়ে যায়। ওই বাতাস যে দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেই অংশেরই ধানসহ গাছের পাতা পুড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুনায়েদ কবীর খাঁন বলেন, ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে শুনে ঘটনাস্থলে যাই। আমি বিষয়টি নিশ্চিত হবার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিষ্টিটিউট কুমিল্লা'র মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.মোঃ রফিকুল ইসলাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.মামুন কে জানালে তারা আজবপুর ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেন । পাশে অবস্থিত ইট ভাটা হতে নির্গত ধোঁয়া ও উত্তাপ এবং ইটের ভাটার গ্যাসে ধান পুড়ে গিয়েছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়টি ইউএনও মহোদয় কে অবহিত করা হয়েছে।
এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মজুমদার,উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা আবদুল মান্নান মোল্লা,উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নুর জাহান মজুমদার, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউল করিম ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরোজ বলেন, অভিযোগ শুনেছি । যদি ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে কৃষকের ক্ষতি হয়ে থাকে তবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।