
করোনাভাইরাসের
নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তারের মধ্যে একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ২৪ ঘণ্টার
মধ্যে বেড়ে দেড়গুণ হল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত
২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে ১২ হাজার ১৮৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা
পড়েছে; এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের।
এক দিনে মৃত্যুর এই সংখ্যা গত ১৮
সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। এক দিনে এর চেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছিল
সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর, সেদিন ৩৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য
অধিদপ্তর।
শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১০ হাজার ৩৭৮ জন নতুন
রোগী শনাক্ত হয়েছিল, মৃত্যু হয়েছিল ২১ জনের। সেই হিসেবে শনাক্ত রোগীর
সংখ্যা বেড়েছে ১৭ শতাংশ, আর মৃত্যু বেড়ে দেড়গুণ হয়েছে।
নতুন রোগীদের
নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩২
জনে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৩৬৩ জনের মৃত্যুর খবর সরকারের খাতায় এসেছে।
সরকারি হিসাবে গত এক দিনে দেশে সেরে উঠেছেন ২ হাজার ১৬৭ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৫ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
এই
হিসাবে দেশে এখন সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৯১ হাজার ৩২৪ জন।
অর্থাৎ এই সংখ্যক রোগী নিশ্চিতভাবে সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছে। আগের দিন এই
সংখ্যা ছিল এক লাখ ৮১ হাজার ৩৪২ জন।
করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের ধাক্কা
সামলে বাংলাদেশের মহামারী পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল গত
বছরের শেষে। ডিসেম্বরে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ঘোরাফেরা করছিল ২০০ থেকে
৩০০ এর ঘরে। শনাক্তের হার নেমে এসেছিল ২ শতাংশের নিচে।
কিন্তু বিশ্বে
করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার শুরুর পর জানুয়ারির
শুরু থেকে বাংলাদেশেরও আবার দ্রুত উঠতে থাকে সংক্রমণের গ্রাফ।
জানুয়ারির
প্রথম দিনও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল চারশর নিচে, ১৬ জানুয়ারি তা ১৬ হাজার
ছাড়ায়। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার রেকর্ড ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশে
পৌঁছায় গত শুক্রবার।
রোববার শনাক্তের হার কিছুটা কমে ২৮ দশমিক ৩৩
শতাংশে এসেছে। মহামারীর মধ্যে সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৩৬
শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
গত এক দিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৭ হাজার ২০৭ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, যা মোট আক্রান্তের ৫৯ শতাংশের বেশি।
গত কয়েক মাস ধরেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর একটি বড় অংশ থাকে ঢাকার। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশের অন্যান্য জেলাতেও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
গত
এক দিনে ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ৬২০১ জন, ফরিদপুরে ১০৯ জন,
গাজীপুরে ২২১ জন, নারায়ণগঞ্জে ১১০ জন এবং নরসিংদীতে ১০৩ জন এবং টাঙ্গাইলে
১২০ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায়
১১১৫ জন, কক্সবাজারে ২২ জন, কুমিল্লায় ১০৭ জন; রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী
জেলায় ৩৭৭ জন, পাবনায় ১৫০ জন, বগুড়ায় ১৩৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া
খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলায় ২১২ জন, যশোরে ১৯১ জন; সিলেট জেলায় ২৩৭
জন; বরিশাল জেলায় ১৩৬ জন, রংপুর জেলায় ১২৪ জন, দিনাজপুর জেলায় ১০২ জনের
মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে গত এক দিনে।
যে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের
মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী। তাদের মধ্যে ২২ জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের
বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগের চারজন, সিলেট
বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন দুইজন।
তাদের মধ্যে ২৪
জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, চারজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, চারজনের বয়স ৪১ থেকে
৫০ বছর, একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর এবং একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে
ছিল।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮
মার্চ। এ বছর ২৫ জানুয়ারি তা ১৭ লাখ পেরিয়ে যায়। তার আগে ডেল্টা
ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে গত বছরের ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬
হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।
প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ২০২০
সালের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গত বছর ৫ ডিসেম্বর কোভিডে মোট মৃত্যু ২৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার আগে ৫
অগাস্ট ও ১০ অগাস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারীর মধ্যে এক
দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
বিশ্বে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৫৬ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৩৭ কোটি ২৮ লাখ।