নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১ (এসআরবি)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ঢাকার শনির আখড়া থেকে এসআরবি- কুমিল্লা এবং এসআরবি-যাত্রাবাড়ীর যৌথ আভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ঘটনায় ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এসআরবি-১১, সিপিসি-২-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এসব তথ্য জানানো হয়।
এসআরবি জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নেয়ামতপুর এলাকায় মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট থেকে ইলিশ মাছ কিনে পিকআপে করে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের পিকআপ দিয়ে তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল।
এ সময় ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাছ ব্যবসায়ী, চালক ও সহযোগীকে মারধর করে। পরে তাঁদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় ডাকাতির মামলা করেন। মামলার পর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরপর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি।
মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক অনুসন্ধান, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও পুলিশি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে ডাকাতির ১৯টি মামলা রয়েছে। তিনি আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার। বিদেশফেরত প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ডাকাতির বাইরে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ডাকাতির ঘটনার পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
