বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মনোহরগঞ্জ শাখার বাৎসরিক অগ্রগতি ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
মোঃ হুমায়ুন কবির মানিক: ।।
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম |

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মনোহরগঞ্জ শাখার বাৎসরিক অগ্রগতি ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিতপল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মনোহরগঞ্জ শাখার আয়োজনে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের বাৎসরিক অগ্রগতি ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর। ‎অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত জাহান এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার ও বোর্ড সচিব মোহাম্মদ আলী। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় কুমিল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনতাজের রাশেদীনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। মনোহরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) শাহাদাত হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ সভায় ব্যাংকের মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

‎সভায় ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় গ্রামীণ অর্থনীতিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাংকটির সেবা আরও গতিশীল করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এর আগে ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর উপজেলায় পৌঁছালে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মনোহরগঞ্জ শাখার পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
‎এদিকে, সফরকালে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
‎মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর উপজেলার ইতিহাস এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলা গঠনের পেছনের প্রেক্ষাপট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, সঠিক উপায়ে আয় ও জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে সবার প্রতি দিকনির্দশনামূলক বার্তা প্রদান করেন।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
এ সম্পর্কিত খবর
মনোহরগঞ্জে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন সাতেশ্বর একাদশ
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মনোহরগঞ্জ শাখার বাৎসরিক অগ্রগতি ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
১৬শ’ ৪৭জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মেরিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন
  টয়লেটের সামরন রোগীর চিকিৎসা  তানভীর দিপু।। গত ৫ অক্টোবর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন সম্প্রসারিত ভবনের ৭ তলায় ১৮ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে পশ্চিম পাশের দু’টি বন্ধ টয়লেটের সামনে তিন ধরে  চিকিৎসা নিচ্ছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সালদা নদী এলাকা থেকে আসা ১৪ বছরের সুমাইয়া। হামে আক্রান্ত হয়ে এতটাই দুর্বল যে সে কথা বলতে পারছে না। সিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের টয়লেটের সামনেই জায়গা হয়েছে সুমাইয়ার। এদিন ওয়ার্ডটির টয়লেটগুলো ঘুরিয়ে দেখান পরিচ্ছন্নতাকর্মী পূর্ণিমা রানী ভৌমিক। পুরো ওয়ার্ডে ৪৮ বেডের বিপরীতে মেঝে আর বে মিলিয়ে রোগী ভর্তি ছিলো ১৫১ জন। সেখানে টয়লেট চালু আছে মাত্র ২টি, বাকি ৬টি ব্যবহার অনুপযোগী। পূর্ণিমা রানী ভৌমিক বলছিলেন, ‘১৫১ জন রোগীর সাথে কমে একজন করে স্বজন থাকলেও পুরো ওয়ার্ডে মানুষ আছে কমপক্ষে ৩ শ। তিন শ মানুষ দুইটা টয়লেট কেমনে ব্যবহার করে? মানুষ কি আর ৩শ থাকে! গুণলে ৪শরও বেশি মানুষ হইবো এই ওয়ার্ডে।’একই দিন পাশের ১১নং ওয়ার্ডের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডেরই আরেকটি শাখায় গিয়ে দেখা যায় প্রায় একই চিত্র। ৩২ বেডের বিপরীতে ৩টি টয়লেট থাকলেও চালু আছে শুধু ১টি। সেদিন মেঝে আর বেড মিলিয়ে রোগীর সংখ্যা ছিলো ১২০ জন। সেখানেও সাথে যান পূর্ণিমা রানী। তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডে রোগী আর এটেনডেন্ট মিলে কমে মানুষ আছে ২শ জন, টয়লেট আছে একটা। বাকি অবস্থা আপনি বুঝে নেন। সকালে টয়লেটের জন্য মানুষ লাইন ধরে থাকে। কেউ অন্য ওয়ার্ডে যায়। এত চাপ থাকে তিন বেলা পরিষ্কার করেও ঠিক রাখা যায় না।নতুন সম্প্রসারিত ভবনের ওয়ার্ড মাষ্টার আক্তার হোসেনের দেয়া তথ্য থেকে জানা গেলো, ওই ৭ তলায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগী ও স্টাফদের জন্য মোট ১৭টি টয়লেটের মধ্যে ৯টিই নষ্ট।পরিসংখ্যান বলছে, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫ শ মানুষের জন্য টয়লেট চালু আছে মাত্র তিনটি।  অর্থাৎ ১৬৬ জনের বিপরীতে একটি টয়লেট। যেখানে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ বলছে, ১৭ বা ১৯ জনের বিপরীতে একটি টয়লেট প্রযোজ্য। কুমিল্লা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এমনই অস্বাস্থ্যকর ও সঙ্কটপূর্ণ শৌচাগার ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিদিন সেবা নিচ্ছে রোগীরা। এতে সুস্থ হতে এসে রোগীরা অন্য রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে যেমন পড়েন তেমনি স্বজনরাও হাসপাতালে এসে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হবার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকগণ।     হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোঃ শাহজাহান বলেন, রোগীদের জন্য ২৪০টির মত টয়লেট আছে। এর মধ্যে ১৭০টি চালু। অর্থাৎ ৭০টি অচল বা ব্যবহার অনুপযোগী। এদিকে অন্তঃবিভাগের ৫শ বেডের বিপরীতে প্রতিদিন হাসপাতালে রোগী থাকে গড়ে দেড় হাজার। তাদের সাথে কমপক্ষে একজন স্বজন থাকলেও তিন হাজার মানুষের জন্য টয়লেট আছে ১৭০টি। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে রোগী হয় ৫ হাজার, তাদের জন্য টয়লেট আছে ১২টি। বহির্বিভাগের ক্ষেত্রেও পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৪১৬ জনের বিপরীতে একটি টয়লেট। অথচ বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ বলছে, বহির্বিভাগে ২১৪ জনের বিপরীতে ১টি টয়লেট থাকা প্রযোজ্য।ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোঃ শাহজাহান আরো বলেন, আমরা নিরুপায়। আমরা চেষ্টা করি যেগুলো চালু আছে সেগুলো পরিষ্কার রাখতে। আর অচলগুলো সচল রাখার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে জানিয়েছি। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরও সঙ্কট । যেখানে ১২৬ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকার কথা সেখানে মাত্র ৫৩ জন দিয়ে চলছে এই কাজ।লাইট নেই, লক্ নেই, দুর্গন্ধ ছড়ায় ওয়ার্ডের ভেতরেও:১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলায় মেডিসিন বিভাগের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় দৈনিক পরিসংখ্যানে লেখা আছে ৪৯ বেডের বিপরীতে ২০৫ জন রোগী ভর্তি আছে। প্রতি রোগীর সাথে অন্তত একজন করে দেখভালকারী ধরে নিলে সেই ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজন মিলে ছিলো ৪১০ জন। হাসপাতালের নতুন ভবনের পুরো একটি তলা নিয়ে এই ওয়ার্ডটিতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য টয়লেট আছে মাত্র ৮টি। অর্থাৎ প্রতি ৫১ জনের জন্য একটি টয়লেট। তবে সেদিন ওই ওয়ার্ডের নার্সরা বলছিলেন, ‘প্রতিরোগীর সাথে কমে দুইজন করে স্বজন আছে। তারা সবাই ওই আটটি টয়লেটই ব্যবহার করে। ’ টয়লেটগুলোর দরজা খুলে দেখা যায়, কোনটাতেই নেই হাত ধোঁয়ার সাবান। কোন কোনটির ছিটকিনি বা লক্ ভেঙ্গে যাওয়ায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। চরম দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এসব টয়লেট থেকে। আবার টয়লেটের দরজার পাশেই রাখা ওয়ার্ডের মেডিকেল বর্জ্য জমানোর ড্রাম।ওয়ার্ডের ঢুকে হাতের ডান পাশের ইউনিটের টয়লেটের পাশের বেডেই চিকিৎসা নিচ্ছেন সত্তরোর্ধ বেশি বয়সী আবদুল আউয়াল। রক্তে নানান জটিলতা সারাতে ভর্তি হয়েছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চান্দিনা থেকে আসা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘সকালে টয়লেট ব্যবহারে লাইন ধরতে হয়। দুই বেলা পরিষ্কার করলেও সারাদিন এত মানুষ যায় গন্ধে টেকা যায় না। একটার ছিটকিনি নষ্ট, একটার আবার লাইট নাই।’কথা হয় হাবিবুল্লাহ নামে এক রোগী ও তাঁর স্ত্রী মাফিয়া বেগমের সাথে। হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘সব সমস্যার বড় সমস্য টয়লেটের। বেশির ভাগই মানুষ টয়লেট ব্যবহার করে বেশি পানি ব্যবহার করে না। আর কোন টয়লেটেই সাবান নাই। টয়লেট সেরে হাত না ধুয়ে যদি আবার রোগীর সেবা শুরু হয়- এটা কেমন ? আমি বাড়ি থেকে সাবান নিয়ে এসেছি।’ তাঁর স্ত্রী মাফিয়া বেগম বলেন, ‘পুরুষদের চেয়ে ভোগান্তি বেশি নারীদের। পুরুষরা চাইলে বাইরে কোথাও যেতে পারে- নারীরা তো তাও পারে না। আর বেশির ভাগ মানুষই লো-কমোড ব্যবহার করতে পারে না- হাই কমোডের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এত দুর্গন্ধ ভেতরে-এক ব্যবহার করলে অসুস্থবোধ হয়।’হাসপাতালের টয়লেট থেকেই ছড়াচ্ছে রোগ! : সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে টয়লেটের সঙ্কট বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। অপরিচ্ছন্নতা ও সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি না মানায়  এসব টয়লেট থেকেই পানিবাহিত রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান জানান, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মত পানিবাহিত মরণব্যাধি অপরিচ্ছন্ন টয়লেট থেকেই সবচেয়ে বেশি ছড়াতে পারে। এছাড়া ডায়রিয়া ও কলেরাও ছড়ায় টয়লেট থেকেই। এসব রোগীদের এবং তার স্বজনদের জানতে হবে। কেউ যদি টয়লেট ব্যবহার করে নিয়মানুযায়ী সাবান দিয়ে হাত না দিয়ে আবার রোগীর খাবার বা ঔষধ ধরেন- সেখান থেকেই জীবানু ছড়িয়ে যাবে। আর রোগীরা অসুসস্থ অবস্থায় অনেকটা অসচেতন থাকে- তাই স্বজনদের বেশি সচেতন থাকতে হবে। বিষয়টি খুব হালকা মনে হলেও- তা নয়।    তিনি আরো বলেন, আমাদের রোগীরা শৌচাগার ব্যবহার জানেনা। তারা খাবারের উচ্ছিষ্ট, সেনিটারি ন্যাপকিন, এমনকি ঔষধের প্যাকেট পর্যন্ত সেখানে ফেলে। একদিকে ব্যবহারকারীর চাপ অন্যদিকে লোকবল না থাকা সব মিলিয়ে মেডিকেল কলেজ হসপাতালের শৌচাগারগুলো অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। তবে হাসপাতালের বেড বৃদ্ধি করলে শৌচাগার বৃদ্ধি পেলে এই চাপ কমতে পারে। না হয় -এই ভোগান্তি থাকবেই।  কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. অমৃত কুমার দেবনাথ বলেন, আমরা এমনও রোগী পাই যে আসলে একটি রোগ নিয়ে এসেছে কিন্তু হাসপাতালে এসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এটা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা মুশকিল তিনি কোন জায়গা থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। কিন্তু আমি এটা বলতে পারি- টয়লেট ব্যবহার বিধি না জানা বা ঠিক মত হাত না ধোয়ার কারণে এসব রোগ ছড়ায়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, আমাদের যদি টয়লেট ঠিক থাকতো, পরিচ্ছন্নতা আমরা মন মত করতে পারতাম তাহলে কোন রোগী সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে যেত না। আমাদের টয়লেটে সাবান নাই। তাহলে যারা বাড়ি থেকে সাবান আনেনি তারা যদি টয়লেট ব্যবহার করে সাবান ব্যবহার না করে শিশুদের সেবা করে তাহলে সেখান থেকেও রোগ ছড়ানোর আশংকা থাকে। এসব প্রমানক ছাড়া বলা যাবে না। কিন্তু এই ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। কৃষিমন্ত্রীর ক্ষোভ, মেরামতে গণপূর্তের ধীরগতির অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সঙ্কট :গত ১ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন কৃষি মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। সেসময় টয়লেটের দুরাবস্থা দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে- নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টয়লেট মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানায় বলে জানান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোঃ শাহ জাহান। তবে মন্ত্রীর ক্ষোভ এবং হাসপাতালের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও গত একমাসে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি বলেই দেখা গেছে। অভিযোগ, গণপূর্ত বিভাগ কাজ করছে খুবই ধীর গতিতে। ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোঃ শাহজাহান বলেন, ‘হাসপাতালের অবকাঠামো দেখভালের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। আমরা জরুরি ভিত্তিতে সব জানিয়েছি। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সব ঠিক করে দিবে বলেছিলো।’ একই অভিযোগ করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ মাছুম হাছানও। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হিসেবে তৈরী-এখন রোগী থাকে দেড় হাজারেরও বেশি। যে কারণে টয়লেটের সঙ্কট। যেগুলো আছে সেগুলো ঠিক করতে আমরা গণপূর্তকে বারবার বলি- তারা ঠিক করে না। আর আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সঙ্কট আছে। আউটসোর্সিংয়ে আমাদের লোক নিয়োগ বন্ধ আছে। যেখানে ১২৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দরকার সেখানে আমাদের মাত্র ৫৩ জন আছে। এই লোকবল দিয়েই তিন শিফটে পরিচ্ছন্নতা চলে। আমরা পরিচ্ছন্নতা ঠিক রাখতে পারি কিন্তু নির্মান বা মেরামত কাজ তো গণপূর্তকে করতে হবে।’হাসপাতালের মেরামতের দায়িত্বপ্রাপ্ত গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফিরোজ বলেন, ‘আমরা কাজ করছি। কাজ চলছে।’  
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২