বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩
স্যাটায়ার ও স্যাটায়বিষ্ট
জুলফিকার নিউটন ।।
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ১:২২ এএম |

স্যাটায়ার ও স্যাটায়বিষ্টল্যাটিন কবি জুভেনালকে স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গ-রসাত্মক রচনার আদি গুরু বললে খুব ভুল হয় না। অবশ্য তার আগেও গ্রীক ও ল্যাটিন সাহিত্যে বিদ্রপাত্মক রচনা লেখা হয়েছে, কিন্তু প্রাচীন স্যাটায়ারিস্টদের মধ্যে তিনিই সর্বাপেক্ষা খ্যাতনামা। জুভেনাল সর্বমোট ষোলটি স্যাটায়ার লিখেছিলেন। প্রথম স্যাটায়ারটি তৎকালীন কাব্য সাহিত্য সম্পর্কে রচিত। প্রথম বাক্যেই বলছেন, আমি কি চিরকাল শ্রোতা হয়েই থাকব ? অপরের রচনা-কবিতা, নাটক শুনে শুনে আমার কান ঝালাপালা হয়েছে আর কিছু না হোক এর প্রতিশোধ নেবার জন্যেই আমাকে লেখনী ধারণ করতে হবে। আমার কানের ওপর যারা অতথানি অত্যাচার করেছে তাদের আমি অত সহজে ছাড়ছিনা। তাহলে দেখতেই পাচ্ছেন অপাঠ্য জিনিস পাঠ করে যখন অতিষ্ঠ বোধ করেছেন তখনই তাঁর লেখার তাগিদ এসেছে। বললে বিশ্বাস করবেন কিনা জানি নে, আমি যে যৎকিঞ্চিং লিখে থাকি তারও মূল কারণটা ঐখানে। আমি জাত লিখিয়ে নই, নিজেকে বিধিদত্ত ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করিনা, লেখার জন্য কেউ আমাকে মাথার দিব্যিও দেয়নি। তবু যে লিখি তার কারণ খুব আজে বাজে জিনিস পড়ে পড়ে যখন আমার মন মেজাজ খিঁচড়ে যায় তখনই আমার লেখার জিদ চেপে বসে। লোকে বলে লিখতে হলে প্রসন্ন মনে লিখতে হয়, আনন্দ থেকেই রসের জন্ম। কিন্তু রস যে সব সময়েই মধুর রস হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আমার লেখার সঙ্গে যাঁদের পরিচয় আছে তাঁরা বলেন, আমার লেখায় তিক্ত রসটাই বেশি অর্থাৎ ওঁদের মতে আমিও একজন খুঁ দে স্যাটায়ারিস্ট। অবশ্য আজকের দিনে অধিকাংশ লেখকই পুরোপুরি না হলেও অংশত ম্যাটায়ারিস্ট গল্প উপন্যাস, কবিতা নাটক সব কিছুতেই একটু টক তেতো না হয় তো ঝাল লঙ্কার ঝাঁঝ মেশানো।
কিছুকাল আগে আমি মানব সমাজের বিশেষ দুটি চরিত্র সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ আলোচনা করেছি এদের একজন সিনিক আরেকজন ব্ল্যাসফেমার। এখন যে ব্যক্তি স্যাটায়ারিস্ট নামে পরিচিত সে এদেরই জ্ঞাতিভ্রাতা। আজকের সমাজে এর পশার প্রতিপত্তি পূর্বোক্তদের চাইতে ঢের বেশি। তিনটি চরিত্রের চারিত্রিক মিল অতি সুস্পষ্ট। তিনজনই নিন্দুক ; নিন্দুক বললে কম বলা হয়। এরা বিদ্রোহী ধর্মদ্রোহী, রাজদ্রোহী, সমাজদ্রোহী। তিনের মধ্যে যেমন মিল তেমনি অমিলও কিছু আছে। ব্ল্যাসফেমার নিন্দুক হয়েও নিজে বহুনিন্দিত ব্যক্তি। তাঁর সম্বন্ধে ধারণা তিনি শ্রদ্ধেয়কে অশ্রদ্ধেয় করবার চেষ্টা করেন। অবশ্য এ অভিযোগ সব সময়ে সত্য নয়। অতীতে দেখা গিয়েছে, যে সব উক্তির জন্য তিনি সমাজে নিন্দিত এবং রাজদ্বারে দণ্ডিত হয়েছেন তার সবই অন্যায় উক্তি এমন নয়। বরং কালক্রমে প্রমাণিত হয়েছে যে, তার বেশির ভাগ কথাই যুক্তিসঙ্গত। ইদানীং কালের ব্লাসফেমাররা অবশ্য নিতান্ত বাহাদুরি দেখাবার জন্যে অনেক সময় প্রচলিত ধ্যান ধারণাকে হাস্যকর প্রতিপন্ন করবার চেষ্টা করেন। বলা বাহুল্য, সেটা সব সময়ে সমর্থনযোগ্য নয়।
আদি যুগের সিনিক ফিলজফি ছিল গভীরতর। তাঁরা সমাজজীবনের আপাত মনোহর বহু জিনিসের মুখোস খুলে দিয়েছিলেন, কোন প্রকার কৃত্রিমতাকে প্রশ্রয় দেননি, সকল প্রকার তামসিকতার নিন্দা করেছেন। এ যুগে সব জিনিসই সস্তা হয়ে গিয়েছে, সিনিসিজমও। নাক সিঁটকিয়ে ঠোঁট উল্টিয়ে কথা বললেই এখন সিনিক সাজা যায়। সিনিসিজম এ যুগের মুদ্রাদোষ।
এটা ঠিক যে, ব্ল্যাসকেমি, সিনিসিজম, স্যাটায়ার এই তিনটিই বয়ঃপ্রাপ্ত সমাজের সৃষ্টি। আদিম সমাজে সরলচিত্ত মানুষ সব কিছুকে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করত। সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে নানা সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। সভ্যমানুষের মন প্রশ্নশঙ্কুল মন। যেখানে ছিল দ্বিধাহীন বিশ্বাস সেখানে এসেছে যুক্তিসন্ধানী জিজ্ঞাস্থ মন। গোড়ার দিকে ব্ল্যাসফেমি বা সিনিসিজম যতখানি সোরগোলের সৃষ্টি করত এখন আর ততখানি করা সম্ভব নয়। কারণ মানুষের মন এখন সবরকম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। আজকের দিনে ব্ল্যাসফেমির জন্য কাউকে প্রাণ দিতে হয়না, বড় জোর এক আধটু গালাগাল খেতে হয়। গুরুতর রকমের মূল্য দিতে হয়না বলে ব্ল্যাসফেমির ও মূল্য কমে গিয়েছে। আদি যুগের সিনিক মতবাদও আজ লুপ্ত। এ যুগের সিনিকরা সব জিনিকে বাজার দরে যাচাই করে, ফলে কোন কিছুকেই তারা যথার্থ মূল্য দিতে জানে না।
কৌতুকের বিষয় যে, এককালে মূল্যবান জিনিসের মূল্য হ্রাসের বিরুদ্ধে এরা প্রতিবাদ জানাতেন কিন্তু এখন এঁদের একমাত্র কাজ হয়েছে সব জিনিসের মূল্য হ্রাস করে দেওয়া। সিনিক এবং ব্ল্যাসফেমার দুজনেই নিজ নিজ সম্মানের আসন অনেক খানি খুইয়ে বসে আছেন। এককালে তাঁদের উভয়ের ইচ্ছে ছিল সমাজকে সংস্কার করা, এখন এ দের একমাত্র আকাক্সক্ষা সমাজকে চমকে দেওয়া। স্বীকার করতেই হবে, এটা খুব একটা কিছু মহৎ উদ্দেশ্য নয়। যুগের ব্ল্যাসফেমি এবং সিনিসিজম এর মধ্যে প্রশংসনীয় খুব বেশি কিছু নেই তথাপি সাহিত্য রসিক হিসেবে আমি এঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ কারণ সাহিত্যে এঁরা যথেষ্ট রসের সঞ্চার করেছেন।
সমাজে যে সম্মানের আসন সিনিক এবং ব্ল্যাসফেমার নিজ দোষে হাত ছাড়া করেছে সে আসন আজ গ্রহণ করেছে স্ম্যাটাররিস্ট। ব্ল্যাসফেমি এবং সিনিসিজম এ দু'-এর গুণ সন্নিপাতে পস্যাটায়ারের জন্ম। ব্ল্যাসফেমির মধ্যে আছে চ্যালেঞ্জের ভাব, সিনিসিজমের মধ্যে অবজ্ঞার। এই দু'-এর মিশ্রণে মানুষের মনে যে সুতীব্র রহফরমহধঃরড়হ-এর সৃষ্টি হয় তাই থেকে ্যাটায়ারের জন্ম হয়েছে। ব্ল্যাসফেমি এবং সিনিসিজম বাস্তব জীবনে যে আলোড়নের সৃষ্টি করে এবং শিল্পসাহিত্যে যখন তা প্রতিফলিত হয়, তখন তাই স্যাটায়ারের রূপ ধারণ করে। অর্থাৎ স্যাটায়ার হল গিয়ে ব্ল্যাসফেমি এবং সিনিসিজমের-এর রসায়িত রূপ। আজকের দিনের যে সুসভ্য সমাজ তা এই তিনের ত্রিহস্পর্শের ফল। সৃষ্টির মধ্যে একদা যা ছিল অজ্ঞাত এবং অর্ধপরিস্ফুট বিজ্ঞান এসে তার ঢাকনা খুলে দিয়েছে। দুঃশাসন কর্তৃক দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ যেমন ব্ল্যাসফেমি, বিজ্ঞান কর্তৃক বিশ্বরহস্যের বস্ত্রহরণ তেমনি ব্ল্যাসফেমি। অসভ্য সমাজে যেমন থাকে অজ্ঞানতার আবরণ, সভ্যসমাজের গায়ে তেমনি দেখা দেয় আরেক জাতীয় 'আবরণ সেটা ভান ভণ্ডামি কৃত্রিমতার আবরণ। যারা চক্ষুষ্মান ব্যক্তি তাঁরা সেই আবরণ উন্মোচন করেন। প্রাচীন সমাজে এই কাজটি নিষ্ঠার সঙ্গে করেছেন ব্ল্যাসফেমার এবং সিনিক। আজকের সমাজে এ দু'-এর ভূমিকা গ্রহণ করেছেন স্যাটায়ারিস্ট। স্যাটায়ারিস্ট একাধারে সিনিক এবং ব্ল্যাসফেমারও বটে। এরা তিনজনেই প্রটেটেন্ট অর্থাৎ এদের মনোভঙ্গি প্রতিবাদমূলক। ব্ল্যাসফেমি অপেক্ষাক্বত বিনয়ী ; সে বলে, তুমি এতকাল যা ভেবে এসেছ সে তোমার ভ্রান্ত ধারণা-অতএব আমার কথা শোন। সিনিসিজম দুর্বিনীত ; সে বলে, তোমাকে বলে কিছু লাভ নেই, উপদেশো হি মূর্খানাং ইত্যাদি ইত্যাদি। বলা বাহুল্য, সমাজ এদের কখনো সুনজরে দেখেনি। হাটের মাঝখানে কারো বিদ্যে বুদ্ধি চরিত্র ফাঁস করে দিলে কেউ খুশি হয়না। স্যাটায়ারও ঐ কাজই করেছে কিন্তু অপেক্ষাকৃত চাতুর্যের সঙ্গে করেছে। সে হাসি মুখে কঠিন কথা বলেছে। অর্থাৎ বিদূষণ ক্রিয়ার সঙ্গে বিদূষকের আর্ট মিশিয়ে নিয়েছে। যাকে হাস্যকর করেছে তাকেও হাসিয়েছে। সমাজের একটা সমষ্টিগত রসবোধ আছে। সামাজিক রসচর্চার অন্য নাম পরচর্চা। পরনিন্দা পরচর্চাকে অনেকে নিন্দনীয় মনে করেন, আমি করি না। পরচর্চাকে আমি মস্ত বড় আর্ট বলে মনে করি ; সমাজকে সে জীবন্ত রেখেছে, ও জিনিস না থাকলে সামাজিক জীবন শুষ্ক, নীরস হয়ে যেত। স্যাটায়ার আর কিছু নয়, উঁচুদরের পরচর্চা। নিন্দাও যে অনিন্দনীয় হতে পারে, বিদ্রপ যে সব সময়ে বিরূপতার সৃষ্টি করে না স্যাটায়ার তা প্রমাণিত করেছে। অরসিক মানুষেরা ঠাট্টা বিদ্রপ করতে জানেনা, তারা গালাগালি করতে জানে। সুদর্শন চক্রও অস্ত্র, ভীমের গদাও অস্ত্র। বেশীর ভাগ মানুষ ভীমের গদাই ব্যবহার করে, বরণাস্ত্র বায়বাস্ত্রের ব্যবহার জানে না। ব্যঙ্গ বিদ্রপ যে কী ধারালো অস্ত্র সে কথা অনেকেরই জানা নেই। কোন মানুষকে যদি সর্বসমক্ষে হাস্যকর করে দেওয়া যায় সে যতখানি অপ্রস্তুত হয় গালাগাল দিলে ততখানি হয় না। খোঁচা দিয়ে কথা বলার মধ্যে রস আছে, ধার আছে। মাথায় বাড়ি দিয়ে কথা বলার মধ্যে কোন সৌন্দর্য নেই। সাত কোটি সন্তানেরে রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ কর নি। কথার মধ্যে নিঃসন্দেহে আঘাত আছে; কিন্তু ধার নেই কিংবা রস নেই এমন কথা কেউ বলবে না। অপর পক্ষে কোন ব্যক্তি যথন বলেন, বাঙালির মত এমন হাড়ে বজ্জাত, হারামজাদা মানুষ পৃথিবীর আর কোন দেশে নেই এর মধ্যে ধারই বা কোথায় রসই বা কোথায় ? একেই বলে ভীমের গদা, অস্ত্র হিসেবে অত্যন্ত স্কুল। ভীমের কোন ংবহংব ড়ভ যঁসড়ঁৎ ছিল না, সূক্ষ্মর বোধ ছিল না। তাঁর গদাটি সেই স্থুলতার প্রতীক। হাস্যরসাত্মক আক্রমণকেই বলে ংধঃরৎব, হাস্যরসবর্জিত. আক্রমণকে বলে রহাবপঃরাব-একটি ধৎঃ অপরটি ফরৎঃ। স্যাটায়ার সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, রঃ ঢ়ষবধংবং বাবহ যিবহ রঃ যঁৎঃং. সমষ্টিকে আঘাত করলে ব্যক্তি বিশেষের গায়ে বড় একটা লাগে না; কেউ নিজের গায়ে পেতে নেয় না, সকলেই উপভোগ করে। অবশ্য স্থাটায়ারে ব্যক্তিগত আক্রমণের দৃষ্টান্তও প্রচুর আছে পোপ ড্রাইডেনের কাব্য, বিশেষ করে পোপ-এর কাব্য তার নিদর্শন। কিন্তু সত্যিকারের রসসৃষ্টি হয়েছিল বলে আজকের দিনেও তা উপভোগ্য। সে কালও নেই, সেই ব্যক্তি বিশেষরাও নেই কিন্তু রসটুকু থেকে গিয়েছে। রস যত সূক্ষ্ম হবে তত বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং দূরগামী হবে। আড়াই হাজার বৎসর পূর্বে রচিত আরিস্টফেনিস্-এর স্যাটায়ার আজও সুখপাঠ্য। অনেকের ধারণা স্যাটায়ার খুব উঁচু দরের জিনিস নয়; তাঁদের মতে এটি সৎসাহিত্যের তালিকায় পড়ে না। তাঁরা মনে করেন, এ জিনিস অতিমাত্রায় সাময়িকতা দোষ-দুষ্ট এবং সেই কারণ স্বভাবতই স্বল্পায়ু এ অতি ভুল ধারণা। স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, জুভেনাল, সারভেনটিস, সুইফট স্যাটায়ার রচনা করেই পৃথিবীর সাহিত্যে ক্লাসিক আখ্যা লাভ করেছেন। এই সূত্রে একটা কথা মনে হচ্ছে। সংস্কৃত সাহিত্যের ঐশ্বর্য অনস্বীকার্য কিন্তু সংস্কৃত সাহিত্যে স্যাটায়ার নেই। ব্যঙ্গ-বিদ্রপ এখানে ওখানে খুচরো ভাবে ছড়িয়ে থাকতে পারে, কিন্তু নিছক ব্যঙ্গাত্মক সাহিত্য বলে কোন জিনিস আছে বলে মনে করিনা। পণ্ডিতদের মুখে একটি গ্রন্থের নাম শুনেছি বিশ্বগুণাদর্শচপ্Íদুই বন্ধু দেশ পর্যটনে বেরিয়েছেন। এক বন্ধু যে জিনিসের প্রশংশায় পঞ্চমুখ, অপরজন তারই নিন্দায় মুখর। মনে রাখা প্রয়োজন যে, নিন্দা করলেই স্যাটায়ার হয় না, স্যাটায়ারের নিজস্ব একটা ভঙ্গি আছে। আমার মনে হয় উক্ত সংস্কৃত গ্রন্থ গ্যাটায়ার নয়, একদেশদর্শিতার দোষ প্রদর্শনই ঐ গ্রন্থের উদ্দেশ্য। আসল কথা আমাদের দেশে সেকালের মানুষ সমাজকে বড় বেশি সমীহ করে চলত, সহজে তাকে ঘাটাতে চাইত না। এই কারণে সে যুগে স্যাটায়ার রচিত হয়নি। স্যাটায়ার এ দেশে এসেছে অপেক্ষাকৃত হাল আমলে। বাংলা সাহিত্যে রঙ্গ রসের প্রথম আভাস দেখা গিয়েছে ভারতচন্দ্রের কাব্যে। অস্তুত তাঁর মনের গঠন স্যাটায়ারের উপযোগী ছিল। তবে পুরোপুরি স্যাটায়ার রচনা ইংরেজের আমলেই হয়েছে, ইংরেজী শিক্ষার ফলে।
কারো কারো ধারণা স্যাটায়ার হাল্কা ধরনের রস রচনা। লেখার ভঙ্গিটা হাস্যরসাশ্রিত বলে অনেকে এই মারাত্মক ভুলটি করেন। বাস্তবিক পক্ষে স্যাটায়ার সব সময় গুরুতর বিষয় নিয়ে রচিত। তার কার ব্যাসফেমি এবং সিনিসিজম-এর মতো স্যাটায়ারও সংস্কার প্রয়াসী। সমাজের বহু জঞ্জাল স্যাটায়ারের আঘাতে দূরীভূত হয়েছে। তবে এক শ্রেণীর স্যাটায়ারিস্ট আছেন তাঁরা শুধু ভাঙবার প্রয়াসী, গড়বার ক্ষমতা 'তাঁদের নেই। এঁদের বলা যেতে পারে ফবসড়ষরঃরড়হ ংয়ঁধফ। এমন যে বার্নার্ড শ তিনিও এঁদের অন্যতম। একজন বলেছেন, ঝযধ'িং মবহরঁং ধিং ভড়ৎ রহঃবষষবপঃঁধষ ংষঁস-পষবধৎধহপব, হড়ঃ ভড়ৎ ঃড়হি-ঢ়ষধহহরহম. তা হলেও শ' আমাদের প্রণম্য কারণ সাহিত্যকর্মে রসসৃষ্টিই মুখ্য, সোংসারিক উদ্দেশ্য গৌণ।
সাহিত্যে যত রকমের রস আছে তার মধ্যে এখন ব্যঙ্গরসের প্রয়োগ সব চাইতে বেশি বিস্তৃত। আগেই বলেছি গল্প উপন্যাস কবিতা নাটক সব কিছুর মধ্যে ব্যঙ্গ অনুপ্রবেশ করেছে। চিত্রশিল্পে কার্টুনের জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বাড়ছে। এখন মানুষের স্বভাব হয়েছে একে অন্যকে খোঁচা দিয়ে কথা বলা। কেউ কারো মান রেখে কথা বলেনা। এই স্বভাবই বা হলো কি করে ? ...এর ও গভীরতর কারণ আছে। আগে মানুষ জীবনকে, সংসারকে অনেক বেশি সম্ভ্রমের চোখে দেখত। এখন জীবন এত কঠিন হয়েছে, প্রত্যেক মানুষ মনে করে জীবন তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করছে। সেই কারণে সেও ফিরে জীবনকে নিয়ে ব্যঙ্গ করছে। তাতেই যা একটু সান্ত্বনা। মানুষের চোখে সংসারের রূপ যখন বদলে যায় তখনই কথায় বার্তায় আচারে ব্যবহারে বিদ্রপ প্রাধান্য লাভ করে। স্যাটায়ার এখন সর্বব্যাপী। পৃথিবীতে এই সত্যিকারের স্যাটায়ারের যুগ এসেছে। এককালে সমাজ ব্ল্যাসফেমারকে জীবন্ত দগ্ধ করেছে, এখন সেই ব্ল্যাসফেমি স্যাটায়ার নাম গ্রহণ করে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে।
লেখক পরিচিতি: ভিজিটিং প্রফেসর, লেখক, গবেষক ও অনুবাদক













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২