ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া ।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন সুতপা রায় তপা। ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করাই তাঁর স্বপ্ন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেন। সুতপা উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মকিমপুর গ্রামের বীরেশ্বর মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবা মানস কুমার রায় মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং মা রীতা রানী কর্মকার ডগ্রাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।এর আগে ২০২৪ সালে ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন সুতপা। ধারাবাহিক এই সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর অর্জিত এসব পুরস্কার ও স্বীকৃতি পরিবারের কাছে গর্বের স্মারক হয়ে রয়েছে। বর্তমানে তাঁর লক্ষ্য মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া। এ জন্য ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে সুতপা রায় তপা বলেন, ‘আমি ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চাই। শুধু চিকিৎসা দেওয়াই নয়, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করতে চাই। আমার এ স্বপ্ন পূরণে সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি। মেয়ের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তাঁর বাবা সহকারী অধ্যাপক মানস কুমার রায় বলেন, ‘সুতপার এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ছোটবেলা থেকেই সে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আসছে। তার পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফলেই আজকের এই সাফল্য। সে যেন ভবিষ্যতে একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে, এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘সুতপা আমাদের কলেজের মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজ থেকে একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করে সে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। তার মতো শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ সুতপার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের পাশাপাশি মকিমপুর গ্রামসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। তাঁরা সুতপার স্বপ্ন পূরণ এবং ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
