মানুষের জীবন শুধু দুনিয়ার ব্যস্ততা, সাফল্য আর প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একদিন তাকে সব কাজের হিসাব দিতে হবে। জীবনের এই বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয় পবিত্র কোরআনের ৮৬তম সুরা, সুরা তারিক। মাত্র ১৭ আয়াতের এই সুরায় মানুষের সৃষ্টি, আল্লাহর সর্বব্যাপী নজরদারি এবং পরকালে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে রয়েছে মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা।
সুরা তারিকের শুরুতে রাতের আগন্তুক নক্ষত্রের শপথ করা হয়েছে। এরপর আল্লাহ বলেন, প্রত্যেক মানুষের ওপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে। অর্থাৎ মানুষের কোনো কাজই আল্লাহর অগোচরে নয়। মানুষ একা থাকুক কিংবা সবার সামনে, তার কথা ও কাজ আল্লাহ জানেন।
এই বিশ্বাস মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখতে পারে। সুযোগ পেয়েও অন্যের অধিকার নষ্ট না করা, গোপনে পাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং দায়িত্ব পালনে সততা বজায় রাখা-এসব আচরণে এ বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটে।
সুরা তারিকে মানুষকে নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করতে বলা হয়েছে। মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে নির্গত তরল থেকে। এই সত্য স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের শক্তি, সৌন্দর্য কিংবা সামাজিক মর্যাদা নিয়ে অহংকার করার সুযোগ নেই। যার শুরু এত সাধারণ, তার উচিত স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং বিনয়ী জীবন যাপন করা।
সুরাটিতে বলা হয়েছে, মানুষের গোপন বিষয়গুলো প্রকাশের দিন আসবে। সেদিন তার নিজের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো শক্তি কিংবা সাহায্যকারী কেউ থাকবে না। এ বক্তব্য মানুষকে পরকালের জবাবদিহির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই দুনিয়ার লাভের জন্য অন্যায় পথে চলা কিংবা মানুষের অধিকার নষ্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
সুরার শেষাংশে কোরআনকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অবিশ্বাসীরা নানা কৌশল করলেও আল্লাহর পরিকল্পনাই কার্যকর হবে। এ শিক্ষা মানুষকে সত্যের পথে অবিচল থাকতে এবং প্রতিকূলতায় হতাশ না হতে উৎসাহিত করে।
সবশেষে সুরা তারিক আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও প্রতিটি কাজের পরিণতি রয়েছে। তাই সততা, বিনয়, দায়িত্বশীলতা ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করাই মুমিনের কর্তব্য।
