শুক্রবার ● ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩
শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যবস্থা নিন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম |

শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যবস্থা নিনদেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে চরম শিক্ষকসংকট বিরাজ করছে। প্রায় ৩৮ শতাংশ সহকারী শিক্ষক এবং ৬৬ শতাংশের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে। পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি শিখনব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষক নিয়োগ দিতে এক দশকেরও বেশি সময় লাগছে। প্রতিবছর ৩০০ শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় পদ পূরণের বদলে উল্টো ঘাটতি থেকে যাচ্ছে; যা শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রতিবছরের শিক্ষকসংকটের চিত্র ও পরিসংখ্যান মাওশি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফাইলবন্দি থাকায় তা আর আলোর মুখ দেখে না। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ৩১৩টি পুরোনো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ হাজার ৭৫৬টি সহকারী শিক্ষক পদ তৈরির জন্য ২০২৩ সালে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই পদগুলো সৃজনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি মাধ্যমিকের জন্য ২০১৪ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সুষ্ঠু পদ বিভাজন করে দিলেও আজ অবধি তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, পদ তৈরির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত রাখতে হয়। প্রেষণ, পদায়ন, পিএইচডিজনিত বা বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব পদ সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের সময় এই ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করা হয় না। এর ফলে উচ্চতর ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ গ্রহণেরও সুযোগ মেলে না। অনেকে স্নাতকোত্তরও করতে পারেন না। শিক্ষকদের অভিযোগ, উল্টো শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশিক্ষণ ও পিএইচডির জন্য শিক্ষকদের নিরুৎসাহিত করছে।
শিক্ষকরা বলছেন, সংকট নিরসনে পাবলিক সার্ভিস কমিশন শুধু শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে। তারা মনে করে, এ ক্ষেত্রে সদিচ্ছার চরম অভাব রয়েছে। এ কারণে সরকারি মাধ্যমিকের নিয়োগ কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে আছে। নন-ক্যাডার নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়। এতে মান ও ঐতিহ্য সব হারাতে বসেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর সঙ্গে কাজের চাপে শিক্ষকরাও মানসিক উদ্যম হারাচ্ছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, একটি পেশাদার সিভিল সার্ভিসের আদলে ‘ন্যাশনাল টিচিং সার্ভিস কোর’ গঠন করে মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক বেতন-ভাতা দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া দরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এমন সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার সেই সুপারিশগুলো আমলে নেয়নি। বিচ্ছিন্ন ও আংশিক কিছু উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এভাবে শিক্ষকসংকট নিয়ে শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।
শিক্ষকসংকট দূর করতে অবিলম্বে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, যাতে পাঠকার্য স্বাভাবিক রাখা যায়। সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। অবিলম্বে শিক্ষাসংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে। যারা অবসরে যাচ্ছেন তাদের বিপরীতে যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, সে পদগুলো পূরণ করা জরুরি। আশা করছি, সরকার অচিরেই মাধ্যমিক শিক্ষকসংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২