শনিবার ● ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক ১৪৩৩
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যা মামলা:
গ্রেফতার চারজনই অভিযুক্ত 
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ১:১৯ এএম |

গ্রেফতার চারজনই অভিযুক্ত নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর চার্জশিট দাখিল করা হয়। বৃহস্পতিবার ২৩ অক্টোবর সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, ৩০ দিন তদন্ত শেষে আমরা গত ২০ তারিখ বিজ্ঞ আদালতের অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছি। সদর দক্ষিণ থানার চার্জশিট নম্বর ৩১৪ তে আমরা চারজনকে অভিযুক্ত করে ৩০২, ২০১, ৩৪ ধারায় চার্জ গঠনের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছি। ইতোমধ্যে আলামত ও ডকেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাদীকে ও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত তদন্তের রকেট দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
অভিযোগ পত্রে কার কি অপরাধ উঠে এসেছে এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, এসব এখন আদালতের বিচার্য বিষয়। আপাতত এখন এসব বিষয়ে কিছু না বলাই ভালো। 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পরিকল্পনায় জড়িত ছিল সিয়াম।
পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মামলার বাদী অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কল করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সেই আশা করছি। বয়সের ফাঁরাকে যেন আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে।’















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২