রোববার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক ১৪৩৩
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনমাসেরমধ্যেই বিচার চান বাবা
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ১:১৮ এএম |

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনমাসেরমধ্যেই বিচার চান বাবাকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর মামলা দায়েরের ৩১ দিনের মাথায় আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
চার্জশিট দাখিলের পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে মামলার বিচারকার্য নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিন মাসের মধ্যে মামলার বিচারকার্য নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, বাবা হিসেবে রাষ্ট্র ও দেশের বিচার বিভাগের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং চার্জশিটে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক এটাই আমাদের চাওয়া।
তিনি বলেন, চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে কয়েক দিন আগেই যোগাযোগ করেছিলাম। তখন তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, পূজার ছুটি শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে তদন্ত কর্মকর্তা ফোন করে জানান, ২০ অক্টোবর চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনের মারপ্যাঁচ আমরা অত বুঝি না। কে শিশু, কে প্রাপ্তবয়স্ক এসব আইনগত বিষয়ও আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু চাই, আমার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। আমি বাবা হিসেবে তাঁদের ফাঁসি চাই।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ২০ অক্টোবর দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসান (১৬)-কে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে মো. সিয়ামের (১৯) বিরুদ্ধে।
এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় অপ্রতীম। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে দুই কিশোর বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই এলাকা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২