
কুমিল্লায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের বড় একটি অংশের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজারো অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এসব যানবাহনের পরিচয় ও চালকদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
ছিনতাইয়ের পাশাপাশি যাত্রী হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাও সামনে আসছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি জান্নাতুল তাজমীন নামের এক স্কুল শিক্ষার্থীকে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে সিএনজি অটোরিক্সার যোগে শহরের রেসকোর্সে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে লালমাই উপজেলায় নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে এক সিএনজি অটোরিক্সা চালক। এতে সড়কে শৃঙ্খলা, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, কোটবাড়ি বিশ্বরোড,টমছমব্রীজ ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন অসংখ্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হওয়ায় এসব যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। কিন্তু চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে তদারকি না করায় সড়কে শৃঙ্খলা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে রাতে নির্জন সড়ক কিংবা কম জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের সময় যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। কোনো অটোরিকশার চালক বা গাড়ির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হলে অপরাধের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করাও পুলিশের জন্য জটিল হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও কুমিল্লায় বৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব যানবাহনের অনেক চালকের বিরুদ্ধে অদক্ষতা ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার অভিযোগ রয়েছে। ফলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। কিছু অনিবন্ধিত অটোরিকশা পুলিশের কাছ থেকে মাসিক অর্থের বিনিময়ে টোকেন নিয়ে সড়কে চলাচল করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন, চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়মিত যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
এ অবস্থায় কুমিল্লায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, চালকদের লাইসেন্স যাচাই এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন সচেতন মহল।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্সের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদুয়ার বাজার -কান্দিরপাড়-লাকসাম-বরুড়া সড়কে চলাচলকারী একাধিক সিএনজি অটোরিক্সা চালক জানায়, গাড়ির কাগজ করলেও পুলিশ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। তাই কাগজ না করে মাসে ৮০০/১০০০ টাকা দিয়ে পুলিশ থেকে টোকেন নিয়ে নিরাপদে চলতে পারি। টোকেন থাকলে গাড়ির নিবন্ধন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলেও কোনো সমস্যা হয় না।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ লুৎফর রহমান জানান, অনিবন্ধিত সিএনজি অটোরিক্সার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কুমিল্লার উপপরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী জানান, অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
