
ফসলের মাঠ কিংবা জলাশয়, পুকুর বা ডোবা কোন কিছুই বাদ যাচ্ছেনা মাটি খেকুদের হাত থেকে। সরে জমিনে গুড়ে দেখা যায় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক গুলোর পাশেই নির্ভয়ে চলছে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দ্বারা মাটি ভরাট। বিলিন হচ্ছে ফসলের মাঠ। কৃষি প্রধান দেশে ড্রেজার যেন কৃষিকের জন্য মরনফাদ। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনাকে উপেক্ষা করে চলছে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়িদের দৌরাত্ম। উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে নিয়মিত ড্রেজারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষনা দিয়েই যেন দায়িত্ব শেষ প্রশাসনের। মাসের পর মাস ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তলণ করে কৃষি জমি বিলিন হচ্ছে সে দিক যেন উপেক্ষিত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে। উপজেলা শিদলাই ইউনিয়নের ৮ নং এলাকা থেকে মাটি এনে দীর্ঘভূমি টু শিদলাই সড়কের পাশে ( ডগ্রাপাড়া জলিল আমিনের বাড়ির উত্তর পাশে) জমি ভরাট করছে মামুন নামে এক ড্রেজার ব্যবসায়ি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কল্পবাস গ্রামের বাসিন্দা জানান, আমাদের বাড়ির পাশে মেশিন চলে । রাত, দিন ড্রেজার মেশিনের শব্দে আমরা অতিষ্ঠ। মামুন শিদলাই ইউনিয়নের বালিনা খালপাড় এলাকার বাসিন্দা। জানতে চাইলে ড্রেজার ব্যবসায়ি মামুন জানান, অনেকের সাথে কথা বলে মেশিন চালাই। অভিযোগ করলে অভিযোগকারীর সাথে যোগাযোগ করে সমাদান করব। তার পরে বাধা দিলে দেখা যাবে। উপজেলার বড়ধুশিয়া নুর মসজিদের পাশে, বড়ধুশিয়া কলেজের দঃ পাশে রাত দিন চলছে মাটি ভরাটের কাজ। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাটের এমন দৃশ্য আগে দেখেনি উপজেলা বাসি। কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে অবৈধ ড্রেজার দিনের আলোয়ে চলছে জানতে চায় সাধারন মানুষ। শুধু প্রধান সড়কের পাশেই নয় প্রায় প্রতিটি গ্রামেই চলছে মাটি খেকুদের দৌরাত্ম। খোজ নিয়ে জানা যায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় প্রায় শতাধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন চলছে। উপজেলা অধিকাংশ কৃষি জমি ড্রেজারের কারনে বিলিন হয়েছে। এখনই ড্রেজার মেশিনের দৌরাত্ম বন্ধ না করলে আগামী কিছু দিনের মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়ায় কৃষি জমি সম্পূর্ণ বিলিন হবে। এ দেশের মানুষের জিবিকার অন্যতম মাধ্যম হল কৃষি। বর্তমান সরকার কৃষি জমিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি বা বালু উত্তলণ আইনগত দন্ডিনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষনা করেছে। মাটি খেকু অবৈধ ড্রেজার মেশিনের হাত থেকে কৃষি জমি বাচাতে প্রশাসন কে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানান কৃষির সাথে জরিত সাধারন মানুষ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মতিন জানান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা অধিকাংশ জমিতে তিনটা ফসল হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে ড্রেজারের কারনে কৃষি জমি বিলিন হচ্ছে। সময় এসেছে এ এলাকার কৃষি জমি রক্ষার্থে ড্রেজারের বিরুদ্ধে যোদ্ধ ঘোষনার।
