সদর দক্ষিণ প্রতিনিধি:
কুমিল্লা মহানগরী ও সদর দক্ষিণ উপজেলায় চুরির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বাসাবাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থানে চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। চুরি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় বিভিন্ন ছদ্মবেশে ঘোরাফেরা করা কিছু ব্যক্তি সুযোগ বুঝে চুরির ঘটনা ঘটায়। কখনো টোকাই, কখনো ভিক্ষুক কিংবা অসহায় মানুষের বেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, রাতের বেলায় মাদকাসক্ত ও বিপথগামী কিছু তরুণের বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ করছেন কেউ কেউ। চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মহানগরী ও সদর দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, আবাসিক পাড়া এবং বাজারগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি। এ অবস্থায় চুরির ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুমিল্লা মহানগরীর উত্তর রামপুর মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা এস. এ. এম. মাহাশিনুজ্জামান রনি জানান, গত দুইদিন আগে আমাদের বাড়ি থেকে দিনেদুপুরে একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলেও চোর সনাক্ত করা যায়নি। এর কিছুদিন আগে আমার ঘরের গ্যারেজের ওয়াশরুম থেকে পানির সব কটি কল চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি নিজের ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করি। পরপর এমন চুরির ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব ঘটনার পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ চোখে না পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গোলাপ হোসেন জানান, ঘর থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন, জানালার থাই গ্লাস খুলে নিয়ে গেছে চোর চক্র। কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর ঘরের একাধিক জানালার থাই গ্লাস চুরি হয়েছে। এলাকায় আগে কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এভাবে চুরির ঘটনা বাড়তে থাকলে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নিজ বসতভিটায় বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এবিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, চুরির অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। চুরির ঘটনায় আজও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, থানা এলাকায় অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
