কুবি প্রতিনিধি ।।
রাতের খাবার পরিবেশনের পর অবশিষ্ট ভাত ও ডাল খোলামেলা অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। সেই ভাতে তেলাপোকা হাঁটতে দেখেছেন কয়েক দিন। সকালে সেই ভাত নতুন ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয় বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রুবায়েত হোসেন।
তিনি বলেন, "আবার যেখানে চাল-ডাল ধোয়ার কাজ করা হয়, সেখানেও প্রচুর ময়লা দেখতে পাই। রাতে খাবার শেষে ডাইনিং টেবিলও ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না।"
রান্নার সময় বাবুর্চি ও কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন রুবায়েত। তিনি বলেন, "স্বাস্থ্যবিধি মানা তো অনেক দূরের ব্যাপার, রান্নার সময় বেশির ভাগ সময় তাঁদের খালি গায়েই দেখি।"
কাজী নজরুল ইসলাম হলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হল সুনীতি-শান্তির ডাইনিংয়েও খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী সুবর্ণা আক্তারের ভাষ্য, বাবুর্চি ও কর্মীরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই খাবার তৈরি করেন। দীর্ঘক্ষণ খাবার খোলামেলা রাখায় তাতে মাছিসহ বিভিন্ন পোকামাকড় বসে। রান্নাঘর ও সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে।
খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে সুবর্ণা বলেন, "দুপুর আর রাতের খাবারটি কোনোমতে খাওয়া গেলেও সকালের খাবারটি একদমই খাওয়ার যোগ্য নয়।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ডাইনিংয়েও খাবারের মান, পুষ্টিগুণ ও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একই ধরনের চিত্রের কথা জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
হলটির শিক্ষার্থী তাহমিদ শান্ত বলেন, "আমাদের যে খাবারটি দেওয়া হয়, সেটি পুষ্টি ও স্বাদহীন। অনেক সময় দুর্গন্ধযুক্ত মাছ আমাদের দেওয়া হয়। তাছাড়া রান্নাঘরটি খুবই অপরিষ্কার এবং তাঁরা যে জুতা পরে বাইরে যান, সেটি নিয়েই আবার রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বাবুর্চি এবং ডাইনিং বয়রা খুবই অসচেতন।"
শান্তর মতে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে খাবারের মান এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা:
খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ৪ জুন ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দূষিত খাবারের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অসুস্থ হন এবং ১৫ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দূষিত খাবার থেকে ২০০টির বেশি রোগ হতে পারে।
সমাধানের আশ্বাস প্রশাসনের:
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, "আমরা খাবারের মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ক্যাফেটেরিয়া কমিটি ও হলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করি, খুব দ্রুত এ সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব হবে।"
