
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীর নিরাপত্তায় সরকারিভাবে নেই সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা প্রহরী। ফলে রাত হলেই বাড়ছে চুরি ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য। আতঙ্কে রয়েছেন শিল্প মালিকরা। সর্বশেষ বিসিক কার্যালয়সহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় চুরির ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন শিল্পনগরী কর্মকর্তা জাফর আহমেদ।
বিসিক শিল্প মালিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন রাত হলেই বহিরাগত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের আখড়ায় পরিণত হয় চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কিছু স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় চলাচলে সতর্ক থাকতে হয়। গত পনের দিনে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একাধিক চোরচক্র জড়িত থাকতে পারে। ফলে শিল্প মালিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরকারিভাবে পুরো শিল্পনগরী জুড়ে সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় বাড়ছে চুরি ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, চুরি ও মাদকের বিস্তাররোধে নিয়মিত পুলিশি টহল, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তদন্ত এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সহ-সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন দুলাল অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিসিক শিল্প নগরীতে মাদক সেবনকারী, মাদক ব্যবসায়ী বিচরন করছে। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নাইট গার্ড থাকা সত্ত্বেও মাদকের আখড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ মসজিদের যাবতীয় ইলেকট্রিক মালামাল চুরি হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বেকারি মালিক সমিতির সভাপতি ও আলিফ ফুডের স্বত্বাধিকারী মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার আমার কারখানা থেকে প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরচক্র।
মেসার্স জমজম অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মোঃ জাবেদ হোসেন বলেন, আমার ফ্যাক্টরিতে বেশ কয়েকবার চুরি সংগঠিত হয়েছে। মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি কিন্তু কোনভাবেই আমরা কোন সুফল পাচ্ছি না। এটাকে যদি এখনই কন্ট্রোল না করা হয় তাহলে অচিরেই চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী মাদকের আখড়ায় পরিণত হবে। গ্রিল কেটে আমার কারখানায় ঢুকে মটরসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি চুরি করে নিয়ে গেছে।
বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা জাফর আহমেদ ও বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি নূর হোসেন মিয়াজী বলেন, যেভাবে চুরির ঘটনা বাড়ছে, তাতে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে বিসিক শিল্প নগরীতে পুলিশের টহল অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পরিদর্শক তদন্ত মোঃ গুলজার আলম বলেন, বিসিকে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এখন থেকে নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও তিনি শিল্প মালিকদেরকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রহরী, ইলেকট্রিক বাতি ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।
