কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকবান্ধব, দানবীর ও সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধিত্বের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কাজকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন গোলাম সারোয়ার। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার প্রত্যাশা করছেন।
সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নিজের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আগে কাজ, পরে নির্বাচন। মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য। জনসেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই।
গোলাম সারোয়ার নিমসার জুনাব আলী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জনাব জুনা বালীর সন্তান। পারিবারিকভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখার কথাও জানান।
মোকাম ইউনিয়নের সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো জরুরি। এসব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ইউনিয়নের সার্বিক পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে গোলাম সারোয়ারের বক্তব্য, ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কার্যকর রাখা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়েও নিজের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার প্রসঙ্গেও কথা বলেন এই সমাজসেবক। তিনি মনে করেন, এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে সহযোগিতা করতে চান তিনি।
গোলাম সারোয়ার বলেন, আমি নির্বাচিত হলে মোকাম ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দেব, ইনশাআল্লাহ।”
তবে নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরিকল্পনা, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর। মোকাম ইউনিয়নের মানুষও প্রত্যাশা করেন, যে-ই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন না কেন, তিনি যেন এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং টেকসই উন্নয়নে আন্তরিক ভূমিকা রাখেন।
জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনই গোলাম সারোয়ারের ঘোষিত লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয়, তাঁর উন্নয়ন ভাবনা ও নির্বাচনী প্রত্যাশা স্থানীয় মানুষের সমর্থন কতটা অর্জন করতে পারে।
