বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
কুমিল্লায় সর্বোচ্চ পূজামণ্ডপ মুরাদনগরে, সর্বনিম্ন নাঙ্গলকোটে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৭ এএম আপডেট: ১৫.১০.২০২৬ ২:২৭ এএম |


  কুমিল্লায় সর্বোচ্চ  পূজামণ্ডপ মুরাদনগরে,  সর্বনিম্ন নাঙ্গলকোটেরণবীর ঘোষ কিংকর। 
কুমিল্লা জেলায় এবার ৮৬০টি পূজামণ্ডপে উদযাপিত হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪২টি। জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রয়েছে মুরাদনগরে। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম পূজামণ্ডপ রয়েছে নাঙ্গলকোট উপজেলায়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের তথ্য অনুযায়ী, মুরাদনগর উপজেলায় ১৫৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। আর নাঙ্গলকোট উপজেলায় মাত্র ১১টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজামণ্ডপের সংখ্যার এই ব্যবধান কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুর্গাপূজা আয়োজনের আঞ্চলিক বৈচিত্র্য তুলে ধরেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে কুমিল্লা জেলায় ৮১৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬০টিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৪২টি। এর মধ্য দিয়ে জেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়েছে।
জেলার অন্যান্য এলাকার মধ্যে দেবীদ্বার উপজেলায় ১০৫টি, বরুড়া উপজেলায় ৯৫টি, চান্দিনা উপজেলায় ৬৯টি, বুড়িচং উপজেলায় ৪৪টি, দাউদকান্দি উপজেলায় ৪৩টি এবং লাকসাম উপজেলায় ৩৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সদর দক্ষিণে ৩১টি, আদর্শ সদরে ২৮টি, চৌদ্দগ্রামে ২৩টি, ব্রাহ্মণপাড়া ও লালমাইয়ে ১৭টি করে, তিতাসে ১৪টি, মেঘনায় ১৩টি, মনোহরগঞ্জে ১২টি এবং লাকসাম-নাঙ্গলকোটসহ জেলার অন্যান্য এলাকায়ও পূজার আয়োজন রয়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজার আগে, পূজা চলাকালে এবং পূজা-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথকভাবে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, গোয়েন্দা সংস্থা, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক থাকবে।
এ ছাড়া পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পূজার দিনগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপগুলো।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় কুমিল্লায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।



















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২