
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই শিশু-কিশোরদের ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত করতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করেছিল। প্রথম আসর শেষ হওয়ার মাস তিনেকের মধ্যে আবার দ্বিতীয় আসর শুরু হচ্ছে। আজ বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস নিয়ে আলোচনা করেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘প্রথম আসরে স্বল্প সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল। এবার ৪৫৯৯ ইউনিয়ন থেকে খেলা শুরু হবে। রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ১৬ লাখ ২৩ হাজার। এর মধ্যে ৯ লাখ কিশোর আর ৬ লাখ কিশোরী। দ্বিতীয় আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যোগ হয়ে মোট ডিসিপ্লিন দশটি হয়েছে।’ প্রথম আসরে ১ লাখ ৬৮ হাজার রেজিস্ট্রেশন করলেও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল দেড় লাখ। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় ৩০৬ জন মেধাবী ক্রীড়াবিদ খুঁজে পেয়েছেন। যাদের ইতোমধ্যে বিকেএসপিতে ৪০ দিনের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি। নিয়মিত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানেই বিকেএসপি হিমশিম খায়। সেখানে ৩০০-র বেশি খেলোয়াড় যোগ হওয়ায় তাদের জন্য চাপ। বিকেএসপি নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, ‘আঞ্চলিক বিকেএসপির সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছি। ফুটবলে মিন্টু ভাইয়ের মতো কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্য খেলাগুলোতেও ভালো মানের কোচ নিয়োগ দেওয়া হবে। যেন ভালো খেলোয়াড় বেরিয়ে আসে।’
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ক্রীড়াঙ্গনে রাতারাতি ফলাফল চান না। তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে মেধাবী খেলোয়াড়রা আসছে। এই ধারাবাহিকতা থাকলে আগামী পাঁচ বছর পর আমরা ক্রীড়াঙ্গনে এর সুফল পাব।’ ফুটবল, ক্রিকেটসহ আরও অনেক খেলায় ক্রীড়াবিদরা জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসেন। অনেক জেলায় খেলাধুলার পরিবেশ নেই, আবার অনেক জেলায় কমিটি নিয়ে রয়েছে স্থবিরতা। জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১২৪৪ কোটি টাকা সিড মানি অনুমোদন দিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের জন্য। সেখানে ফেডারেশনগুলো গুরুত্ব ও সম্ভাবনা অনুযায়ী অর্থ পাবে, তেমনই জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো ৩ কোটি টাকা করে পাবে। কিছু দিনের মধ্যে এই বন্টন শুরু হবে। ক্রীড়া ভাতা খেলোয়াড়রা পাচ্ছে না, সেই সমস্যাও সমাধান হচ্ছে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে। খেলোয়াড়রা এক সঙ্গে তিন মাসের অর্থই পাবে।’
৫ নভেম্বর খুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার জন্য আন্তরিক। তাই তিনি প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি ইউনিয়নে আমরা ৩ বিঘা জায়গার মতো মাঠ খুঁজছি। হাওড় ও পার্বত্য অঞ্চল জেলায় ৩ বিঘা জায়গা পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে একটু কম হতে পারে। আমরা আপাতত সরকারি খাস জমিতেই মাঠ করার চেষ্টা করছি। ভূমি অধিগ্রহণের চিন্তা নেই আপাতত।’
