
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় একাদশের ২০২৬ আসরের চতুর্থ ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের টপ-অর্ডার ব্যাটার ইরফান সাবরি তাকরিক। তাঁর নান্দনিক শতরানে ভর করে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম বিভাগ।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন ইরফান। প্রতিপক্ষের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং সামলে ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্যও দেখান এই ডানহাতি ব্যাটার। চারদিকে দারুণ সব স্ট্রোক খেলে এগিয়ে যান সেঞ্চুরির দিকে।
শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বল মোকাবিলা করে ১১৬ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন ইরফান। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে দলের ইনিংসকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি করে দেন তিনি।
ইরফানের ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক শটের দারুণ সমন্বয়। বিশেষ করে পেসারদের বিপক্ষে তাঁর ফ্লিক এবং স্পিনারদের বিপক্ষে লফটেড শট ছিল দৃষ্টিনন্দন। সেঞ্চুরি পূরণের পর ইনিংস আরও বড় করার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ১১৬ রানে থামেন তিনি।
ইরফান সাবরি তাকরিকের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শুধু চট্টগ্রাম বিভাগের জন্যই নয়, কুমিল্লার ক্রিকেটের জন্যও গর্বের। তাঁর ক্রিকেটীয় বেড়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান ক্রিকেট একাডেমির প্রধান কোচ আতিকুল ইসলাম। তাঁর প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যায় কুমিল্লা থেকে উঠে আসা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার বর্তমানে জাতীয় দলের পাইপলাইনে রয়েছেন।
কুমিল্লার ক্রিকেটাঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরিতে কাজ করে আসছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান ক্রিকেট একাডেমি। ইরফান সাবরির মতো ক্রিকেটারের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এমন পারফরম্যান্স সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনসিএল দ্বিতীয় একাদশে ইরফানের এই সেঞ্চুরি তাঁর আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়াবে, তেমনি ভবিষ্যতে মূল এনসিএল দলে জায়গা করে নেওয়ার দাবিও আরও জোরালো করবে। কুমিল্লার ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ধারাবাহিকতা ধরে রেখে একদিন জাতীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ মঞ্চেও নিজের জায়গা করে নেবেন এই তরুণ ব্যাটার।
