কুমিল্লার লালমাইয়ে বিএনপি মনিরুল হক চৌধুরী সমর্থিতদের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া অনুসারী ৫১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বাগমারা বাজার রেলগেট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বাগমারা দক্ষিণ বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য মানিক মিয়া বলেন, কুমিল্লা জেলা ওলামা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও লালমাই উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিএনপি নেতাকর্মীরা সেদিন বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন। তবে ওই মিছিলের সময় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।
মানিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে মনগড়া মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাদের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। দয়া করে লালমাই উপজেলার রাজনীতি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবেন না। অন্যায়ভাবে আমাদের প্রতিপক্ষ বানানো হলে আমরা রাজনৈতিকভাবেই তা মোকাবিলা করব।’
একইসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককেও এ ধরনের ‘ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আছলাম মেম্বার বলেন, ‘আমরা বিএনপির অনুগত কর্মী হিসেবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। কিন্তু আমাদের ওপর অহেতুক আঘাত এলে আমরাও শান্ত থাকব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবিলম্বে এই ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করা না হলে লালমাইয়ের সচেতন সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’
সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
