
ত্রিপুরা রাজপরিবারের একটা ইতিহাস খুবই ছোট আকারে প্রারম্ভিক অধ্যায় হিসেবে ব্যবহার করেছি। সংঘাত ও সংহতির ইতিহাস একটা সময়ে এসে যেন অন্যতর মাত্রা পেল। নবদ্বীপ কর্তা নানা যথাযথ কারণ থাকলেও রাজা হতে পারেননি। কেন রাজা হননি, কথা বলে দেখেছি, নানা কথা প্রচলিত রয়েছে। প্রাবন্ধিক নারায়ণ চৌধুরী মশাই একটা কারণ হিসেবে তো নবদ্বীপ কর্তার বিবাগী চরিত্রের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
সে যাই হোক, রাজবাড়ির বাইরে অন্য এক বাড়িতে জীবন কাটিয়েছেন নবদ্বীপ কর্তা। সে বাড়ি ছিল কুমিল্লায়।
নবদ্বীপচন্দ্রের জীবনে আর্থিক অনটন দেখা দেয়নি কখনও। রাজা না হলেও রাজসম্পদের একটা অংশ পেয়েছিলেন। কুমিল্লা তখন ত্রিপুরাতেই ছিল। কুমিল্লার নবাববাড়ির সাথে ছিল খুব ভাব। ফলে নানুয়া দিঘীর পাড়ে বাড়ি করেই নবদ্বীপচন্দ্র থাকতে শুরু করেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা বাড়িতেই কাটিয়ে গিয়েছেন। নানুয়া দিঘীর কথা বলছিলাম। কুমিল্লা শহরকে দিঘীর শহর হিসেবেই মানুষ বেশি চেনে। অনেক বড় বড় দিঘী। রাজা উজিরেরাই খনন করিয়েছিলেন। ধর্মসাগর, রাণীর দিঘী, উজিরের দিঘী। নানুয়ার দিঘী তো রয়েছেই।
নানুয়ার দিঘীর কাছাকাছি একটা ছোট এলাকা ছিল। নাম ‘চরথা’। এই চরথাতেই শচীন কর্তাদের বাড়ি। বড় বাড়ি বেশ। ষাট বিঘা জমির উপর বাড়ি ছিল। এখন তার পলেস্তারা খসেছে। এখানে ওখানে রিফিউজির লতাপাতা জড়িয়ে উঠতে দেখেছি। বাংলাদেশ সরকার হাঁসমুরগি পালন কেন্দ্র চালু করেছেন। শচীন কর্তা ত্রিপুরার মানুষ। আরও বড় কথা, তিনি সুরজগতের মানুষ। ভাটিয়ালির মানুষ। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মানুষ। কোন বিকল্প ভাবনা কি নবদ্বীপ কর্তা ও শচীন কর্তার ওই বাড়ি নিয়ে ভাবা যেতো না? এখনও কি যায় না? খুব বড়ো বাড়ি। বড়ো গেইট ছিল এককালে। বিশাল উঠোন। নবদ্বীপ কর্তা কুমিল্লার জনজীবনে নিজেকে খুব বেশি মেলাননি। ঘরে বসে জ্ঞানভান্ডারের সম্পদ আহরণ করতেন। পড়তেন প্রচুর। লিখেছেনও কিছু কিছু। সজ্জন ও সংস্কৃতজ্ঞ মানুষ ছিলেন। শচীন কর্তা বাবার কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি আমার পিতৃদেবের ধাঁচে গড়া, তাঁর শিক্ষাই আমার মেরুদণ্ড। আমার কাছে বাবা ছিলেন সিদ্ধ মহাপুরুষ। তাঁর দীক্ষাতেই আমার এই সামান্য কলাবিদ্যার স্ফুরণঘটেছিল।... বাবা আমাকে অঢেল ভালোবাসতেন। সত্যিকারের কলাকার ও গুণী শিল্পী ছিলেন তিনি। বাবা খুবই নিপুণ হস্তে সেতার বাজাতেন আর তা ছাড়া চমৎকার গলা ছিল তাঁর ধ্রুপদাঙ্গ গানের। ছবি আঁকা আর মূর্তি গড়াতেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। আমাদের বাড়ির দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজা, কালী পূজা এই সব উৎসবে কুমোরকে সরিয়ে দিয়ে আমার বাবা স্বর্গত মহারাজকুমার শ্রী নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মণ বাহাদুরকে দেখেছি দেবীর মূর্তি গড়তে।’
ইংরেজি ১৯০৬ সাল, পয়লা অক্টোবর, শচীন কর্তা কুমিল্লার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মা নিরুপমা দেবী মণিপুর রাজপরিবারের মেয়ে ছিলেন। পাঁচ ভাই, চার বোন। ন’ভাইবোনের মধ্যে শচীন কর্তা সবার ছোট ছিলেন বলেই বাবা দূরে পাঠাতে চাননি। কাছাকাছি রেখে বড়ো করতে চেয়েছেন। নবদ্বীপ কর্তা প্রশান্ত আর প্রফুল্লকে শান্তিনিকেতন পড়তে পাঠিয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনের পাঠ সেরে ওঁরা পরে দার্জিলিং-এ সেন্ট পলস্ স্কুলেও পড়েছেন। রবীন্দ্রনাথের নিবিড় বন্ধু ছিলেন নবদ্বীপ কর্তা। রবীন্দ্রনাথ নবদ্বীপ কর্তার বাড়িতেও একবার এসে ক'দিন ছিলেন। শচীন কর্তার ছোড়দা ছিলেন কিরণকুমার। লেফটেনেন্ট কর্ণেল। ছ’বছরের বড়ো। ললিতকলার ই মানুষ ছিলেন। নবদ্বীপ কর্তার ইচ্ছেয় মিলিটারিতে যেতে হয়েছিল। অথচ ‘তাঁর গলা ছিল অতি মধুর, তিনি খটকী, মুড়কী তান ও লয়ের সঙ্গে গান গাইতেন; ছবি আঁকতেন, মূর্তি গড়তেন।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ত্রিপুরা রাইফেল বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। শচীন কর্তা বলছেন, ‘ভাইবোনদের ভিতর তিনি আমার সবচাইতে প্রিয় ছিলেন এবং তাঁর প্রভাব আমার সঙ্গীত জীবনে প্রচুর। ১৯৪৩ সালে ছোড়দার মৃত্যু আমাকে খুবই আঘাত দেয়।’
কুমিল্লা শহরের একটা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক জীবনের কথা বহু মানুষ তাঁদের স্মৃতিচারণায় উল্লেখ করেছেন। ত্রিপুরার রাজপরিবারেও একই মানের চেতনার কথা উল্লিখিত হয়েছে। তবে শুরুতেই একটা অন্য কথা বলতে চাইছি। রাজপরিবারের এই সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের ভেতর অন্য একটা অনুভূতির সন্ধান পেয়েছিলেন শচীন কর্তা। কোন রাজকুমার যখন সঙ্গীত জগতের শীর্ষে আরোহণ করেছেন, তখন তার আত্মকথায় যদি এমন মনোভঙ্গী শুরুতেই উল্লিখিত হয়- অসামান্য এক শচীন কর্তার মন আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে। পাঠক খেয়াল করুন। শৈশবে এই উপলব্ধিতে বড়ো হয়ে না উঠলে তিনি কিছুতেই লোকগানের শচীন কর্তা হয়ে উঠতে পারতেন না। তাঁর নিজের জবানীতেই শুনি, “ত্রিপুরার রাজবাড়ির রাজকুমার হয়ে জন্মেছি প্রাচুর্যের যুগে। বিলাস-ব্যসন, ঐশ্বর্য-বৈভব, শৌখিনতা, আদবকায়দা দেখেছি অফুরন্ত আমাদের বাড়িতে। রাজবাড়ির নিয়ম অনুযায়ী জনসাধারণের থেকে আমাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে গুরুজনেরা আমাদের শৈশব থেকেই সচেতন করে দিতেন। তাঁরা তীক্ষè দৃষ্টি রাখতেন যাতে আমরা তাঁদের যারা সাধারণ লোক তাদের সঙ্গে মেলামেশা না করি। আমি তাঁদের এ আদেশ কোনদিনও মেনে চলতে পারিনি। কেন জানি না জ্ঞান হবার সঙ্গে সঙ্গেই মাটির টান অনুভব করে মাটির কোলে থাকতেই ভালোবাসতাম। আর বড়ো আপনলাগত সেই সহজ সরল মাটির মানুষগুলোকে যাদের গুরুজনেরা বলতেন ‘সাধারণ’ লোক। যাই হোক, অসাধারণের দিকে না ঝুঁকে আমি ওই সাধারণ লোকেদের মাঝেই নিজেকে নিঃশেষে বিলিয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে এক হয়ে গেলাম শৈশব থেকেই। আমার এই আচরণ ও স্বভাব রাজপরিবারের কেউ পছন্দ করতেন না। আমার বাবারও কিন্তু কোনপ্রকার ‘চৎরফব’ বা ‘চৎবলঁফরপব’ ছিল না।”
বাবার যে ‘চৎরফব’ বা ‘চৎবলঁফরপব’ ছিল না, তার এক উজ্জ্বল উদাহরণও আমাদের সামনে রয়েছে। পরিচিত ছাত্রাবাস হিসেবে ‘কুমার বর্ডিং’ ছিল। ছেলেরা থেকে লেখাপড়া করত। রাজবাড়ির ছেলেরাও থাকত সেখানে। শচীন কর্তা কিছুকাল ছিলেন। একদিন নবদ্বীপ কর্তা দূর থেকে দেখলেন, একই অপরাধে মাস্টারমশাই সাধারণ ছেলেদের যা শাস্তি দিচ্ছেন, রাজার ছেলেদের কম শাস্তি দিচ্ছেন। প্রমাদ গুণলেন নবদ্বীপ কর্তা। ছেলে তাহলে এখানে থেকে মানুষ হবে না। মাস্টারমশাইয়েরা যদি ‘ছাত্র’ ভাবনা বাদ দিয়ে ‘রাজ ভাবনা’য় সংক্রমিত হন, ছেলের মানুষ হবার কোন সম্ভাবনা নেই। আর দেরি করেননি নবদ্বীপ কর্তা। ছেলেকে ‘বর্ডিং’ থেকে তুলে নিয়ে এলেন। নিজের কাছে রেখেই মানুষ করবেন ঠিক করলেন। ফলে কুমিল্লা শহরেই শচীনের ছোটবেলাটা কেটেছিল। প্রথমে ইউসুফ প্রাইমারি স্কুলে পড়েছিলেন। পরে উঁচু ক্লাসে উঠে কুমিল্লা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। ক্লাস ফাইভ থেকে জিলা স্কুলে পড়েছেন। ‘পঞ্চম শ্রেণীতে ছাত্রজীবনে বাবার শেখান গান আমি সরস্বতী পূজায় আমাদের স্কুলের অনুষ্ঠানে গেয়েছি।’ মনে রেখেছেন সময়টা শচীন কর্তা। ১৯১৬ সাল। স্কুলে সবাই খুব খুশি। আদর আর প্রশংসায় বড়ো হচ্ছিলেন শচীন কর্তা। হেডমাস্টারমশাই নিজে এতো খুশি হয়েছিলেন যে নবদ্বীপ কর্তার কাছে শচীন কর্তার খুব তারিফ করে চিঠি দিয়েছিলেন। কোথায় শিখেছিলেন শচীন কর্তা এই গান? বাবার শেখানো গান গেয়েছেন।
নিয়মিত তালিম নিতে চাইলে অন্য কথা ভাবতে হয়। শুধু শুনে শুনে গান হয় না। কুমিল্লায় তখন শ্যামাচরণ দত্ত নামের একজন ধ্রুপদ ও খেয়াল গায়ক ছিলেন। খ্যাতি ছিল তাঁর। বাবা চাইছিলেন, শচীন তাঁর কাছে গান চর্চা করুক। রাজি হলেন না শচীন কর্তা। বাবার কাছেই শিখতে থাকলেন।
ধ্রুপদ ও খেয়াল শচীনের ভালো লাগত না এমন নয়। বড়ো হয়ে এই জগতে অনেকটা সময় দিয়েছেন তিনি। ছোটবেলায় তাঁর মন পড়ে থাকত অন্য জগতে। গ্রামের গানে মন ভরে যেত। শচীন কর্তার কথাতেই শুনুন।
‘মাধব নামে আমাদের এক বৃদ্ধ চাকর ছিল। রবিবারে স্কুল ছুটির দিনে খাওয়া দাওয়ার পর দুপুরে এই মাধব আমাদের সুর করে রামায়ণ পড়ে শোনাত। সে যখন সুরে রামায়ণ পড়ত, তখন তার তান খট্কী ছাড়া, সরল সোজা গানের ধরন আমাকে পাগল করে দিত। কোন ওস্তাদী নেই, কিন্তু কত অনায়াসে সে গেয়ে যেত। আমাদের বাড়িতে বাউল, ভাটিয়ালি গাইয়ে, গাজন-গান ও কালীনাচের গাইয়ে, ফকির, বোষ্টম দূরের গ্রাম থেকে সর্বদাই আসত।
তাদের গানে আমি অভিভূত হয়ে যেতাম। আমাদের বাড়িতে আনোয়ার নামে আরেক ভৃত্য ছিল। এই আনোয়ার ছিল আমার মাছ ধরা শেখানোর গুরু। আমাদের বাগানের বাঁশ গাছের বাঁশ কেটে তাই দিয়ে নিজের হাতে ছিপ তৈরি করে, নিজে সূতো কেটে, তা ছিপে জুড়ে দিত। তার নিজস্ব সম্পত্তির এক বাক্স খুলে তা থেকে ওর নিজের মরচেপড়া বড়শী ছিপে লাগিয়ে আনোয়ার আমাকে মাছ ধরা শেখানতে হাতে খড়ি দিল। কুমিল্লায় আমাদের ষাট বিঘা জমির উপর বাড়ি। তাতে ফলের, তরকারির, ফুলের বাগান। বড় বড় পুরানো গাছ আর তিনটে বড় পুকুরে ভর্তি মাছ ছিল। এসব বাবার সখের জিনিস। বাবা নিজের হাতে গাছ লাগাতেন। মালীর সঙ্গে বাবা নিজের হাতে মাটি কোপাতেন। গোমতী নদী থেকে মাছের পোনা সংগ্রহ করে প্রতি বছর পুকুরে ছাড়তেন। আনোয়ার আর আমি সুযোগ বুঝে ছিপ নিয়ে বসে যেতাম-আর দু’জনে মাছ ধরতাম। তারপর গান গাইতে গাইতে পুকুরের ধারে ধারে ও বাগানে দু’জনে বেড়িয়ে মনের কথা বলতাম। সেই দিনগুলি যে কি মধুর ছিল তা এখন বলে বোঝাতে পারব না।
আনোয়ার রাত্রে তার দোতারা বাজিয়ে যখন ভাটিয়ালি গান করত, তখন আমার ব্যাকরণ মুখস্থ করার দফারফা হয়ে যেত। এবং পরদিন স্কুলে মাষ্টারমশাই-এর কাছে বকুনিও খেতাম। কিন্তু রাত্রে আবার ব্যাকরণ মুখস্থ, অঙ্ক কষা ছেড়ে আনোয়ারের কোল ঘেঁষে বসে তার ভাটিয়ালির সুরে ও কথায় নিজেকে হারিয়ে ফেলতাম। এরাই হল, লোকসঙ্গীতের আমার প্রথম দুই গুরু - মাধব ও আনোয়ার।’
মার্গ সঙ্গীতে কি কোনই আগ্রহ ছিল না শচীন কর্তার? ছিল বৈ কি। তবে বলতেন তিনি, ‘ওস্তাদী গানেতে গলা সাধতে হয় দস্তুরমত, তাতে সরগম, তাল, লয়, মীড়, গমকের দরকার। কিন্তু আনোয়ারের গানে এসবের কোন বালাই ছিল না সহজ সুরে, মিষ্টি করে গেয়ে সে প্রাণ মাতিয়ে দিত। আমি মার্গসঙ্গীত যত পছন্দ করতাম, ঠিক ততখানি মাধব আনোয়ারের গানেও মুগ্ধ হতাম।
স্কুলের সঙ্গেই লাগোয়া খেলার মাঠ ও তার পাশে বুড়ো বটগাছ। সেই গাছের নীচে আমাদের গানের নিয়মিত আসর জমত টিফিনের ছুটিতে। আমি আনোয়ারের গানগুলি গাইতাম - খোলা মাঠে পাশে ধর্মসাগর দীঘি। বড় বড় গাছের তলায়, রোদে, বৃষ্টিতে, ঝড়ে, বাদলে, শীতে, কী আনন্দই না পেয়েছি প্রকৃতির কোলে মাটির গান গেয়ে দিন কাটিয়ে। সে আনন্দের আস্বাদন আজ আর পাওয়া যাবে না।’
শহরে ইট কাঠ কংক্রিটের আড়ালে যারা বেড়ে উঠে, তারা এই গানের মূল্য দিতে পারবেন কি? মুম্বাইবাসী এক শীর্ষস্থানীয় শিল্পী ও সুরকার শচীন কর্তা ১৩৭৬ সালে এই প্রশ্ন তুলেছেন। অতীতের শিক্ষাকে অটুট করে ধরে রেখেছেন যিনি, তিনি তো বলতেই পারেন, ‘শহরবাসীরা তার মূল্য বুঝবে না, সন্ধানও বুঝবে না। আনোয়ারের গানে সোজা সরল সুরে
ও কথায় দেহতত্ত্ব, ঈশ্বরতত্ত্ব, রাধাকৃষ্ণের মিলন-বিরহের বর্ণনা কি যে অপূর্ব আমেজ এনে দিত, তা বুঝিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
এমন সুরেলা গান দিয়ে মাতোয়ারা করে শচীন কর্তা তাঁর জীবনে বেশ ক’বার শাস্তির হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন। একবার পুজোর মেলায় গিয়ে কি কান্ড ঘটেছিল তাঁর নিজের জবানিতেই শুনুন।
‘আমি যখন নবম শ্রেণীতে পড়ি, কুমিল্লা থেকে দশ মাইল দূরে কমলাসাগরে পূজার মেলা দেখতে যাচ্ছি- বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীদের সঙ্গে। সেখানে কালীমন্দিরের চারিপাশ ঘিরে মেলা বসত। বহু দূর থেকে গ্রামবাসীরা মেলা দেখতে আসত। মেলা দেখা শেষ করে কমলাসাগর স্টেশনে এসে দেখি ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা টিকিট না কেটেই দৌড়ে ট্রেনে উঠে পড়ি। পরে টিকিট চেকারের হাতে ধরা পড়ে যাই, বিনা টিকিটে ভ্রমণের অপরাধে। কুমিল্লার স্টেশন মাস্টার আমাদের সবাইকে স্টেশনের পাশে একটি গুদামঘরে বন্ধ করে দেন। বাড়ি থেকে বেরনোর সময় বাবার অনুমতি নিইনি, ভেবেছিলাম সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরে যাব। কোন জবাবদিহি করতে হবে না। তখন স্টেশনে গুদামজাত হয়ে আমি ত কেঁদেই ফেলি। আমার সহপাঠী মোহিত এক বুদ্ধি যোগাল। সে বলল ‘স্টেশনমাস্টারের মা খুব গান ভালবাসেন। কিছু আগে আমাদের বাড়িতে ঢপ কীর্তন শুনতে এসে আবেগে কাঁদছিলেন। শচীন, তুই তোর ভাটিয়ালি ও বাউল গানগুলি শুরু কর দেখি। এই গানগুলো গাইলে আমাদের মুক্তি পাবার একটা সুরাহা হবে।’ আমি অবসন্ন মনে গান শুরু করে দিলাম। গানে কোন প্রাণ ছিল না কারণ আমি তখন বাড়ি পৌঁছাতে পারলেই বাঁচি। কিন্তু গানের কি মহিমা আর মোহিতের বুদ্ধির কি বাহাদুরী আমার গান পৌঁছাল স্টেশন মাস্টারের মার কানে। দশ মিনিটের মধ্যে তাজ্জব ব্যাপার। গুদামঘরের দরজা খুলে গেল। দেখি সশরীরে স্টেশন মাস্টারের মা উপস্থিত। গান শোনার পর ছেলের নিকট আমাদের কথা শুনে মুক্তি দিলেন আমাদের। এমনকি বাড়ি যাবার আগে সকলকে মিষ্টিমুখও করিয়ে দিয়েছিলেন।’
কুমিল্লায় কাত্যায়নী কালীবাড়ির দক্ষিণ দিকে একটা ক্লাব ছিল। ইয়ংমেন্স ক্লাব। সেখানে রোজ আড্ডা দিতেন শচীন কর্তা। ‘পূর্বাশা’ খ্যাত সঞ্জয় ভট্টাচার্য, গীতিকার অজয় ভট্টাচার্য, সুবোধ পুরকায়স্থ, নারায়ণ চৌধুরী এঁরা সব আসতেন। মাঝে মাঝে নজরুল ইসলাম হাজির হতেন।
পড়াশুনোয় শচীন কর্তা কেমন ছিলেন? যারা দেখেছেন তাঁকে ছোটবেলায়, বলেছেন, পড়াশুনোয় ভালো ছিলেন। নিজে কি বলতেন? ‘ব্যাকরণ ও অঙ্কের নামে আমার গায়ে জ্বর এসে যেত।’
নবদ্বীপ কর্তা তাঁর ভাবনার ভুবন বাড়ির অন্দরমহলে তৈরি করে নিলেও ছেলেরা সব উল্টো হয়েছিল। খুব মিশুকে। শহরের সব কাজে সবার আগে পা বাড়িয়ে থাকতেন। খেলাধূলা, গানবাজনা সব কিছুতেই।
১৯২০ সাল। ১৪ বছর বয়সে শচীন কর্তা কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। পরের ধাপ কলেজ। কোথায় পড়বেন? ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হলেন। সাহিত্যে ঝোঁক বেশি। আর্টস নিয়ে পড়বেন। আই-এ ক্লাসে ভর্তি হলেন। বাইরের সবাই বলছেন, পড়াশুনোয় শচীন কর্তা ভালো। শচীন কর্তা নিজে বলতে চান অন্যকথা। অকপটে অন্যকথা। ‘পড়ায় তেমন মন ছিল না। পাশের নবাব বাড়িতে প্রতি বছর বড় বড় গাইয়ে, বাজিয়ে ও বাঈজীরা এসে গান বাজনা করতেন। পড়া ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে রাত জেগে সেই সব মজলিসে সময়মত উপস্থিত হতাম আর রাতের পর রাত তাঁদের গান বাজনা উপভোগ করতাম।’
ভাটিয়ালী আর বাউল প্রেমিক শচীন কর্তার কথা খানিকটা আগে আমরা বলেছি। কলেজে পড়ছেন যখন, এই নেশা তাঁকে ছাড়েনি। কলেজের ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে গ্রামে গ্রামে ভাটিয়ালী ও বাউল গায়কদের সাথে ঘুরে বেড়াতেন।
যাঁরা পরে শচীন কর্তার জীবন নিয়ে কথা বলেছেন, তাঁরা শচীন কর্তার ‘তিন প্রিয়’ জিনিসের কথা বলেছেন। ‘গান’, ‘মাছধরা’, আর ‘খেলা’। ছোটবেলায় শচীন কর্তা ভালোই খেলতেন। ‘.....টাউন হলের মাঠে টেনিস খেলায় একজন পয়লা নম্বরের খেলোয়াড়।’ পরে গানের জগতে পুরোপুরি চলে যাবার পর নিজে খেলতে পারেননি। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক শচীন কর্তা মুম্বাইয়ে পুরো দলটাকে এনে থাকা খাওয়ার আয়োজন করে খেলা দেখতে যেতেন। মুম্বাইয়ে ইস্টবেঙ্গল খেলতে গিয়েছে, শচীন কর্তা মাঠে নেই এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। আরও একটা গুণ তাঁর ছিল। খুব ভাল তীর ছুঁড়তে পারতেন। দক্ষ তীরন্দাজ। তীর দিয়ে তিনি কি আর আমাদের শেষদিন পর্যন্ত বিদ্ধ করেননি? এমন তীর, সুরসপ্তকে গড়া, আমাদের আহত হতে ভালোই লাগত। আজও লাগে, যখন তাঁর গান শুনতে পাই।
যাই হোক, শচীন কর্তার মাছ ধরার এক গল্প বলা যাক। একটু সময় পেলেই আনোয়ারের সাথে মাছ ধরতে বসে যেতেন শচীন কর্তা। এই নেশা তাঁর বরাবরের ছিল। কলকাতাতে ছিল। মুম্বাইতেও ছিল। বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে কলকাতায় তিনি নিয়মিত বড়শি ফেলতেন। কলকাতার আশেপাশে কোথাও চলে যেতেন সকালবেলা। বিকেলে ফিরে আসতেন। মুম্বাইতে পাওয়াই লেকে মাছ ধরতেন। মাছ ধরার ক্লাবের মেম্বার হয়ে গিয়েছিলেন। কারা থাকতেন সাথে? অনেকেই, কেউ পরিচিত, কেউ অতো পরিচিত নন। দু’জনের কথা শচীন কর্তা নিজেই লিখেছেন। মুকুল বসু। নীতীন বসুর ছোট ভাই। সিনেমার গুরু দত্ত। আরও অনেকে।
কলেজের ছাত্র যখন শচীন কর্তা, কেমন শাসন করতেন বাবা তাঁকে? উদারমনের মানুষ যেমন হয়, তার বাইরে পা বাড়াননি কখনও নবদ্বীপ কর্তা। ছেলেকে ডেকে বলেছেন, ‘সময়মত খাওয়া দাওয়া করবে- আর পাশ করতেই হবে একবারে কাজেই পড়াশোনার সময়টুকু ঠিক রেখো। তোমার গান শেখার বা শোনার ইচ্ছায় আমি কোন বাধা দেব না। কারণ নিজের ভালমন্দ বোঝার তোমার এখন বয়স হয়েছে।’
নারায়ণ চৌধুরী বলেছিলেন, শচীন কর্তা কুমিল্লা টাউন হলের মাঠে টেনিস খেলায় একজন পয়লা নম্বরের খেলোয়াড়। শচীন কর্তা নিজে কি বলেছেন?
‘.... ছিল টেনিস খেলার নেশা। কুমিল্লায় আমাদের বাড়িতে টেনিস লন ছিল, সেখানে সর্বদাই খেলতাম। সেখানে চ্যাম্পিয়ন আখ্যাও পেয়ে গিয়েছিলাম।’ ব্যাডমিন্টনও ভালো খেলতে পারতেন। ফুটবলে ফরোয়ার্ড ও লেফট আউট খেলতেন। উমাকান্ত মাঠে একবার ওঋঅ-এর রেফারিও হয়েছিলেন।
কেমন একটা নরম মন ছিল শচীন কর্তার, আজ আমরা অনেকে ভাবতেও পারি না। মাধব আর আনোয়ারের কথা বলেছেন শচীন কর্তা। আর প্রবীণা ধাই মায়ের কথা বলেছেন। শচীন কর্তার পরিবারে সব ভাইবোনের জন্য আলাদা আলাদা ধাই-মা ছিলেন। তাঁর ‘ধাই-মা’-এর নাম ছিল ‘রবির মা’। মন খারাপ করত শচীন কর্তার। তাঁকে মায়ের মতো যত্ন দিয়ে মানুষ করেছেন। তাঁর নাম ‘রবির মা’ হবে কেন? শচীনও কি তাঁর ছেলে নন? বিস্ময় লাগে বড় ভাবতে এমন। শৈশবের ভাবনা পরিণত বয়সের আত্মকথায় উচ্চারণ করতে শচীন কর্তা দ্বিধান্বিত হননি। শচীন কর্তার একটা চমৎকার নাম ঐ ধাই-মা দিয়েছিলেন। পাঠক জানলে পুলকিত হবেন। ডালিমকুমার। রূপকথার গল্পে অনেক রাজকুমারের এমন নাম দেখা যায়। ডালিমকুমার নাম কেন দিয়েছিলেন ধাই-মা? টুকটুকে ফর্সা ছিলেন শচীন কর্তা। কখনও তাঁর কথা ভুলতে পারেননি শচীন কর্তা। নিজের জীবনকথায় লিখেছেন, ‘২৪ ঘন্টা তিনি আমাকে স্নেহের আঁচলে ঢেকে রাখতেন জ্ঞান অবধি তাঁর হাতেই স্নান খাওয়া শোওয়া সব কিছু। কলেজ জীবনেও বাড়ি থেকে যখন বাইরে যেতাম, আমার পথ চেয়ে বসে থাকতেন। দেরী হলে তাঁর বকুনি শুনতে হত। পরে যখন কলকাতাতে স্থায়ীভাবে এসে বাস করছি, ধাই-মাও আমার সঙ্গে কলকাতা এসেছিলেন, কারণ আমাকে না দেখে তিনি থাকতে পারতেন না। দু’বছর আমার সঙ্গে থেকে ১৯২৭ সালে দেশে ফিরে গেলেন। বৃদ্ধা ধাই-মা দেশে ফিরেই রোগে আক্রান্ত হন এবং অল্প কয়েকদিন ভুগে ইহলোক ত্যাগ করেন। শেষ সময়ে আমার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। আমি তখন কলকাতায়।’ এই হলেন শচীন কর্তা।
১৯২২ সাল। শচীন কর্তা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ভালোভাবেই আই এ পাশ করলেন। শচীন কর্তা আর একই কলেজে থাকতে চাইলেন না। বাইরে কোথাও যেতে চান।
দাদারা সব বাইরে বাইরে রয়েছেন, সবার ছোট শচীন কর্তাও এবার বাইরে গিয়ে লেখাপড়া করতে চান। কোথায় যাবেন? কলকাতায়। বাবা কি ছাড়বেন? ছোটবেলা থেকেই তো শচীনকে বাবা আগলে আগলে নিজের কাছে রেখেছেন। স্বাধীনতা যেই বয়সে যা দেবার দিয়েছেন, তবু বাড়ির বাইরে অন্য কোথাও যেতে দেননি।
ভয়ে ভয়ে বাবাকে বললেন শচীন কর্তা। বাবা চুপচাপ রইলেন কিছুক্ষণ। খারাপ লাগল শচীন কর্তার। বাবা বললেন তারপর, ‘তুমি আমার ছোট ছেলে, অন্য সবাই বিদেশে, অন্তত আরও দুটি বছর তুমি আমার কাছেই থাকবে। এটাই আমি চাই।’
বাবাকে অমান্য করতে চাইবেন কেন? সত্যিইতো। বাব একা হয়ে যাবেন। একা একা বাবা মা থাকবেন কেমন করে? রাজি হয়ে গেলেন শচীন কর্তা এক কথায়। ১৯২৩ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজেই বি.এ. ক্লাশে ভর্তি হলেন। বাংলার জল, বাংলার মাটি শচীনকে কিছুতেই বোধহয় ছাড়তে চাইল না। পড়া চলত একদিকে। অন্যদিকে বাংলার গানের সন্ধানে মাতোয়ারা শচীন কর্তা গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁর নিজের কথাতেই শুনুন। ‘নতুন উদ্দীপনায় ঘুরে বেড়াতাম গ্রামে মাঠে ঘাটে। ভাসাতাম নদীর জলে নৌকা, চাষী জেলেদের সঙ্গ - বাউল বোষ্টম ভাটিয়ালী গায়ক ও গাজন দলের সঙ্গে ছুটির ফাঁকে কলেজ ফাঁকি দিয়ে সময় কাটাতাম গান গেয়ে। আমরা সবাই যে এক হুঁকোয় তামাক খেতাম, বাবা তা জানতেন না।’ স্নিগ্ধ অহঙ্কারে বুক ফুলিয়ে উচ্চারণ করছেন শচীন কর্তা, ‘পূর্ববঙ্গের ওই অঞ্চলের এমন কোন গ্রাম নেই বা এমন কোন নদী নেই, যেখানে আমি না ঘুরেছি। ছুটি ও পড়াশোনার ফাঁকে আমি গান সংগ্রহ করতাম। আমার এখনকার যা কিছু সংগ্রহ যা কিছু পুঁজি সে সবই ওই সময়কার সংগ্রহেরই সম্পদ। আজ আমি শুধু ওই একটি সম্পদেই সমৃদ্ধ, সে সম্পদের আস্বাদন করে আমার মনপ্রাণ আজও ভরে ওঠে। যে সম্পদের জোরে আমি সুরের সেবা করে চলেছি- তার আদি হল আমার ওইসব দিনের সংগ্রহ ও স্মৃতি।’
প্রতি পংক্তিতে বিস্ময়ের কথা উচ্চারণ করলেও শচীন কর্তার হৃদয়রাজ্যে প্রবেশ করা যায় না। কতোটা আত্মবিশ্বাস আর দাপট থাকলে মুম্বাই জগতের প্রিয় মানুষটি লিখতে পারেন এইসব কথা, মাঝে মাঝে আমরা হয়তো শুধু অনুভবের কসরৎ করতে পারব।
কারও কারও লেখায় দেখতে পাই, শচীন কর্তার শৈশব ও কৈশোরের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, জীবনের প্রথমে তিনি গান করতেন না। বাঁশি বাজাতেন। আমরা যেমন বাঁশি দেখতে পাই তেমন নয়। ‘টিপরাই বাঁশি।’“কুমিল্লার ‘টিপরাই বাঁশি’ কুমিল্লার নিজস্ব জিনিস। রিডবিহীন এক বাঁশের চোঙা হলেও তাতে ঠিকমত ফুঁ দিতে জানলে বাঁশি কী গুণ জানে! বাঁশি মন ধইরা টানে।” তবে আওয়াজটি যত মধুর বাজনও ঠিক ততটাই কঠিন। (কুমিল্লায় সঙ্গীত চর্চার আদি যুগ-সুনির্মল পুরকায়স্থ)
বাঁশি বাজানোতে খুবই দক্ষ ছিলেন শচীন কর্তা। তবলা বাজানোতেও তাঁর খুব ভালো হাত ছিল। কুমিল্লা শহরে তিনি ও নজরুল একসাথে গানের চর্চা করেছেন। দিঘীর পাড়ে বসে নজরুল গান লিখেছেন। শচীন কর্তা সুর করে গাইতেন সে গান। আবার একথাও ঠিক, নজরুল যখন গীতরচনায় মগ্ন, শচীন কর্তা একমনে বাঁশি বাজাতেন। তবে একথা ঠিক, ঐ কৈশোর পর্ব ছিল শচীন কর্তার নির্মাণ পর্ব। নিজেকে তৈরি করার পর্ব। বড়ো জগতে আসন লাভের প্রস্তুতি পর্ব। ফলে আলাদা করে গানবাজনা খেলাধূলা-এককভাবে কেউ মাথা ছাড়িয়ে যায়নি।
কলেজে যখন নাটক হত, শচীন কর্তার ভূমিকা থাকত প্রতি বছর। একজন ইতিহাসের অধ্যাপক ছিলেন। নিজে নাটক লিখে ছেলেদের দিয়ে অভিনয় করাতেন। আবার অন্য নাটকও পরিচালনা করতেন। নিজের হোক বা অন্যের নাটক হোক, গান লিখতেন নিজেই, সুর দেয়ার ভার ছিল শচীন কর্তার উপর। দক্ষতা যাচাই না করে একজন কলেজ পড়ুয়ার হাতে নিশ্চয়ই কেউ সুর সংযোজনার দায়িত্ব অর্পণ করতেন না।
১৯২৪ সাল। শচীন কর্তা বি. এ. পাশ করেন। ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে তিনিই ছিলেন প্রথম স্নাতক। নিছকই এ এক তথ্য, এর উপর বেশি কিছু নির্ভর করে না। যাই হোক, এবার কুমিল্লার মাটি ছেড়ে বাইরে যেতেই হবে। খুব কাছাকাছি বলতে কলকাতা। বাবা নিজে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে এলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম. এ. (ইংরেজি) ক্লাসে ভর্তি হলেন। শচীন কর্তার জীবনে নতুন পরিচ্ছেদ শুরু হল।
