মঙ্গলবার ● ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব হৃদয় দিবস
হৃদয়ের স্পন্দন মিস করবেন না
ডা. সি. এম. কুদরত- ই- খোদা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫১ এএম আপডেট: ২৯.০৯.২০২৬ ১:৩৬ এএম |

 বিশ্ব হৃদয় দিবস
বিশ্বব্যাপী অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে হৃদরোগ ও স্ট্রোক বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ব হৃদয় দিবস।
১. বিশ্ব হৃদয় দিবস কী?
 * তারিখ: প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালিত হয়।
 * নেতৃত্ব: বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে 'ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন' (ডড়ৎষফ ঐবধৎঃ ঋবফবৎধঃরড়হ) এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছে।
 * উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য: বিশ্বজুড়ে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (ঈঠউ) বা হৃদরোগ ও স্ট্রোক সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী হৃদরোগজনিত মৃত্যুহার কমিয়ে আনা।
 * প্রভাব: বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালিত হয়।
২. ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য
২০২৬ সালের বিশ্ব হৃদয় দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হলো:
> "উড়হ'ঃ গরংং ধ ইবধঃ" (হৃদয়ের স্পন্দন মিস করবেন না)
এই প্রতিপাদ্যের মূল সুর হলো—হৃদরোগের প্রাথমিক সংকেতগুলো সঠিকভাবে চেনা, সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রতিটি মূল্যবান প্রাণের স্পন্দন রক্ষা করা।
৩. প্রতিপাদ্যের তিনটি মূল স্তম্ভ
স্তম্ভ    বিষয়    প্রধান লক্ষ্য
১. লক্ষণ চিনুন    প্রাথমিক সংকেত শনাক্তকরণ    সূক্ষ্ম ও গোপন লক্ষণগুলো দ্রুত চেনা
২ .হৃদয় রক্ষা করুন    স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রতিরোধ    জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগ ঠেকানো ।
৩ .পদক্ষেপের দাবি     সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নীতি পরিবর্তন     জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাধান্য ও সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন

স্তম্ভ ১ (লক্ষণ চিনুন): অনেক সময় হৃদরোগের সাধারণ উপসর্গগুলোকে কেবল গ্যাস, হজমের সমস্যা বা সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করা হয়। বিশেষ করে তরুণদের জন্মগত হৃদরোগ ও নারীদের ব্যতিক্রমী উপসর্গগুলো প্রায়ই দেরিতে ধরা পড়ে।
স্তম্ভ ২ (হৃদয় রক্ষা করুন): অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, অলস জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং ডায়াবেটিস হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই এর প্রতিরোধ।
স্তম্ভ ৩ (পদক্ষেপের দাবি): বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় মনোযোগ পাচ্ছে না হৃদরোগ। মাত্র ২০টিরও কম দেশে এ সম্পর্কিত সুস্পষ্ট জাতীয় পরিকল্পনা রয়েছে। তাই সরকারি উদ্যোগ, নীতি তৈরি ও কার্যকর সামাজিক সচেতনতা তৈরি অপরিহার্য।
৪. কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
 * বিশ্বজুড়ে গড়ে প্রতি ৩ জনের ১ জন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
 * অন্য যেকোনো মারণব্যাধির চেয়ে হৃদরোগে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ।
 * আশার কথা হলো-এই মৃত্যুর একটি বড় অংশই সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য।
৫. জরুরি সতর্ক সংকেত ও লক্ষণ
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে অবিলম্বে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে:
 * বুকে চাপ, অতিরিক্ত ব্যাথা বা অস্বস্তি
 * সামান্য পরিশ্রমে অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট
 * বাম বাহু, চোয়াল, পিঠ বা ঘাড়ে তীব্র ব্যথা
 * অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘাম বের হওয়া
 * মাথা ঘোরা বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: নারী ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণ বুক ব্যথার বদলে পেটে অস্বস্তি, তীব্র ক্লান্তি বা বমি বমি ভাবের মতো ভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।)
৬. হৃদরোগ প্রতিরোধের ৭টি অভ্যাস
১. নিয়মিত ব্যায়াম: দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হেঁটে বা শরীরচর্চা করে নিজেকে সক্রিয় রাখুন।
২. খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ: খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলুন।
৩. পুষ্টিকর খাবার: দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণ তাজা ফলমূল ও শাকসবজি রাখুন।
৪. তামাক বর্জন: তামাকজাত দ্রব্য ও ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন।
৫. মানসিক চাপ হ্রাস: স্ট্রেস বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৬. নিয়মিত হেলথ চেক-আপ: রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
৭. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গুণগত ঘুম নিশ্চিত করুন।
৭. পদক্ষেপের আহ্বান (আপনার করণীয়)
 * ব্যক্তি পর্যায়ে: নিজের ও পরিবারের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং প্রতি বছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করুন।
 * সমাজ ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে: কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করুন এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে আধুনিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য নীতির দাবি তুলে ধরুন।
৮. উপসংহার
হৃদরোগ প্রতিহত করা সম্পূর্ণ সম্ভব। কেবল লক্ষণ চেনা এবং সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই পারে একটি প্রাণ বাঁচাতে। মনে রাখবেন-একটি স্পন্দন মিস হওয়া মানেই একটি জীবনের ঝুঁকি। নিজের এবং প্রিয়জনের হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখুন; কারণ প্রতিটি স্পন্দনই অমূল্য।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি), কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা

 













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২