বর্তমানে আমাদের সমাজ তথা দেশের জন্য একটি মারাত্মক ও ক্রমবর্ধমান সামাজিক ব্যাধি ও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে কিশোর অপরাধ তথা কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি । নি:সন্দেহে কিশোর গ্যাং- এর দল বেঁধে মহড়া দেয়া, চুরি, ছিনতাই, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আমাদের সমাজ ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। কিশোর গ্যাং হলো ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের একটি দল, যারা সাধারণত আধিপত্য বিস্তার, মারামারি, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। একসময় যে কিশোর সমাজকে দেশের সম্ভাবনা, স্বপ্ন ও সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতীক মনে করা হতো, আজ তাদের একাংশ অপরাধের অন্ধকার পথে পা বাড়িয়ে সমাজের বড় একটি আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশেই কিশোর গ্যাং এখন বিষফোড়া। এসব গ্যাং ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে, বিভিন্ন জেলা শহরে। দেশি গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজীপুরের টঙ্গী এবং যশোরের পুলেরহাটে অবস্থিত কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র দুটিতে থাকা কিশোরদের একটি বড় অংশই খুন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, টঙ্গী ও যশোর উভয় কেন্দ্রেই ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেশি কিশোর অবস্থান করছে। এই পরিসংখ্যানটি মূলত কিশোর অপরাধের ধরন এবং সমাজ ও বিচার ব্যবস্থার গভীর সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে। কিশোর গ্যাং কালচার কেবল একটি আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নয়, এটি একটি গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি।
বিভিন্ন কারণে আমাদের সমাজের কিছু কিশোর অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে, যা শুরুতে বড় বড় নগরে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন উপজেলা ও মফস্বলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রমশই ভয়ংকর হয়ে উঠছে উঠতি বয়সি ছেলেদের কিশোর গ্যাং নামক গ্রুপগুলো। ইদানীং প্রায়ই পত্রিকার পাতায় আমাদের চোখে পড়ছে কিশোরদের সংঘবদ্ধ অপরাধের ভয়ংকর সব চিত্র। নিজেদের এলাকায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ানো, রাস্তায় ছিনতাই বা চাঁদাবাজি করা, ইভ টিজিং ও মারামারি, বখাটেপনা এবং ছোটখাটো অজুহাতে সহিংস হামলায় দলবেঁধে অংশ নিচ্ছে। এমনকি, মাদক পাচার, অবৈধ্য অস্ত্র বহনের মতো মারাত্মক অপরাধের কাজে উঠতি বয়সের কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার খবর শোনা যাচ্ছে। মূলত পারিবারিক অনুশাসন ও পারিবারিক বন্ধনের অভাব, অপসংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, মূল্যবোধের অবক্ষয়, সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ও খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়ার কারনে এ ধরনের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইন্টারনেটে সহিংস কনটেন্ট ও অপরাধমূলক ভিডিওর নেতিবাচক প্রভাব। অপরাধী চক্রের প্ররোচনায় কম বয়সে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রবণতার কারণে কমবয়সী কিশোররা পরিণতি জেনে বা না জেনে এসব অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ ছোটগল্পে বলেছেন, ‘তেরো-চৌদ্দ বছরের মতো এমন বালাই আর নেই।’ কথাটা একদমই সত্য। এই বয়সে ছেলেমেয়েদের আবেগ, চিন্তা, চেতনা ও চলাফেরায় পরিবর্তন আসে। এই সময়ে তাদের শারীরিক, মানসিক ও হরমোনজনিত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। বিগত দিনগুলোতে চলে আসা শাসন-বারণকে তারা আর মানতে চায় না। এই বয়সে কিশোর-কিশোরীরা শৈশব থেকে বেরিয়ে এসে গোপনীয়তা খোঁজে এবং তাদের নিজের মতামত বা ভাবনাকে সঠিক বলে প্রমাণ করতে চায়। এই বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বাইরের জগতের রোমাঞ্চকর অভিযান ও যান্ত্রিক বিষয়ের প্রতি আকর্ষণের পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগ ও গেমিংয়ের প্রতিও সমান আগ্রহ থাকে। কিশোর বয়সের এই পরিবর্তনগুলো একটি মানুষের জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল মোড়। বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান উভয়ই স্বীকার করে যে, পরিবর্তনগুলো কোন দিকে মোড় নেবে, ইতিবাচক না নেতিবাচক হবে —তা মূলত তাদের পরিবার, সমাজ এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। অনেক সময় অতি দারিদ্র্য কিংবা অতি প্রাচুর্য কিশোরদের বিপথগামী করে। যখন একটি কিশোর মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তার মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ জন্ম নেয়। বেঁচে থাকার তাগিদে বা সহজে টাকা উপার্জনের আশায় তারা অনেক সময় অপরাধ জগৎ, মাদক চোরাচালান বা বিভিন্ন গ্যাং-এর সাথে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ ও সম্পদ যখন কোনো কিশোরের হাতে সহজে চলে আসে, তখন সে জীবনের আসল মূল্য বা পরিশ্রমের গুরুত্ব বুঝতে পারে না। অনেক সময় মা-বাবার অতি-ব্যস্ততা বা অর্থের মাধ্যমে সব অভাব পূরণের চেষ্টা কিশোরদের একাকী করে তোলে। এই একাকীত্ব ও সীমাহীন স্বাধীনতা থেকে তারা কৌতুহলবশত বা বিনোদনের খোঁজে মাদক, অনৈতিক জীবনযাপন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
কৈশোর ও তারুণ্যই একটি মানুষের জীবন এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে যে বীজ বপন করা হয়, পরবর্তীতে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে তারই প্রতিফলন ঘটে। সুশিক্ষা, চরিত্র, বিনয়, অধ্যাবসায়, নীতি, আদর্শের ভীত তৈরি হয় কিশোর বয়স থেকেই। তরুণরাই নতুন স্বপ্নের সূর্য, সমাজ ও দেশের আগামীর সম্ভাবনা। ওরা বিপথগামী হলে সমাজ তথা দেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে না। একটি সুস্থ, সুন্দর ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে শিশু-কিশোরদের নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই এবং এই শিক্ষার প্রথম ও প্রধান পাঠশালা হলো পরিবার। মা-বাবা নৈতিকতা মেনে চললে, পরিবার থেকে চরিত্র গঠনের নৈতিক গুণাবলি অর্জন করতে পারলে কিশোররা অপরাধপ্রবণতা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সক্ষম হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদে বলা হয়েছে— প্রতিটি শিশু ও কিশোর পরিবার ও সমাজ থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশেষ যত্নের দাবি রাখে। কিন্তু আমাদের দেশে পরিবার ও সমাজ থেকে নানা কারণে শিশু-কিশোররা সুশিক্ষার সঠিক তদারকি ও যত্ম পায় না। এর বিরূপ প্রভাবে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বিঘ্নিত হয়ে ছোট ছোট ভুল করতে করতে একসময় বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যায় তারা।
পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা একটি বড় কারণ। নগরায়ণ, কর্মব্যস্ততা এবং পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে অনেক বাবা-মা সন্তানের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, পারিবারিক সহিংসতা কিংবা দীর্ঘ সময় অভিভাবকের অনুপস্থিতি কিশোরদের মানসিকভাবে একাকী করে তোলে। তারা তখন পরিবার নয়, সমবয়সী বন্ধুদের কাছেই নিরাপত্তা ও পরিচয়ের অনুভূতি খুঁজে পায়। সেই বন্ধুত্বই অনেক সময় গ্যাংয়ে রূপ নেয়। বর্তমান যুগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়া এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের দূরত্বের বিষয়টি সমাজবিজ্ঞান ও শিক্ষাবিদদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার কারণে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যখন একটি কিশোরের ভেতরের অতিরিক্ত শক্তি এবং সৃজনশীলতা ইতিবাচক কোনো মাধ্যম না পায়, তখন তা নেতিবাচক দিকে (যেমন: স্ক্রিন আসক্তি, গ্যাং কালচার, মাদক বা বিষণ্নতা) ধাবিত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে তারা বিকল্প পরিচয় খুঁজে নেয় গ্যাং সংস্কৃতির মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়। মারামারির ভিডিও, গ্যাংয়ের নামে ফেসবুক গ্রুপ বা টিকটক ভিডিও তাদের কাছে এক ধরনের জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। ভার্চুয়াল পরিচিতি বাস্তব জীবনের অপরাধকে উৎসাহিত করে। মাদক এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতাও কিশোর গ্যাং বিস্তারের অন্যতম কারণ। অনেক এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা অপরাধচক্র নিজেদের স্বার্থে কিশোরদের ব্যবহার করে। তারা কিশোরদের দিয়ে মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক শোডাউন কিংবা প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজ করায়।
কেবল শক্তি বা আইন প্রয়োগ করে কোনো গভীর সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়। যেকোনো জটিল সামাজিক সংকটের মূলোৎপাটন করতে হলে বহুমাত্রিক এবং সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ অপরিহার্য। সমাজ থেকে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ করতে হলে কেবল শিশু-সমাজকে উন্নত করলেই চলবে না, প্রয়োজন পুরো সমাজের উন্নয়ন । প্রতিটি কিশোরের প্রথম বিদ্যালয় তার পরিবার। মা-বাবাকে তাদের সন্তানদের বন্ধু হতে হবে, তারা কার সাথে মিশছে ও কোথায় সময় কাটাচ্ছে সেদিকে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে হবে। ওদের খেলাধুলার স্বাভাবিক পরিবেশ দিতে হবে। বই পড়ায় উৎসাহিত করতে পাড়া বা মহল্লাভিত্তিক পাঠাগার নির্মাণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কিশোর গ্যাং সমস্যার সমাধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে বিতর্ক, খেলাধুলা, স্কাউটিং, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা এবং সামাজিক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা গেলে তারা ইতিবাচক নেতৃত্বের সুযোগ পাবে। সামাজিক ভাবে সকলে মিলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে কিশোরদেরকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, অপরাধ আসলে ছোঁয়াচে রোগের মতো, ক্রমেই পুরো সমাজে ছড়িয় পড়ে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে তাই আপন ভাবতে হবে। এজন্য প্রয়োজন আমাদের মানবিক মনোভাবসম্পন্ন হয়ে ওঠা। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে পারস্পরিক সহমর্মিতা, কর্তব্যপরায়ণতা আর সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সামাজিক সংগঠন এবং অভিভাবকদের সমন্বয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। খেলার মাঠ, পাঠাগার, যুবকেন্দ্র, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল কার্যক্রম বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানো এবং তাদের দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় প্রয়োজন। আজকের যুগে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে জানাই যথেষ্ট নয়, বরং ইন্টারনেটের বিশাল জগতে কীভাবে নিরাপদ, সচেতন এবং উৎপাদনশীল থাকা যায়, তা শেখানো জরুরি।
একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের ওপর। কিশোরদের একটা বড় অংশ যদি অপরাধ, গ্যাং ফাইট ও মাদকচক্রে জড়িয়ে পড়ে, তবে দেশ দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব হারাবে। কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যাটি সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কিশোর গ্যাং কালচার এবং তাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। এটি আমাদের সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ। এই পরিস্থিতি রোধে পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি, উপযুক্ত নৈতিক শিক্ষা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক মাধ্যম এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত, যাতে কিশোররা বিপথগামী না হয়। কিশোর অপরাধীদের সরাসরি দাগি আসামিদের সাথে কারাগারে না রেখে উন্নত মানের সংশোধনাগার বা কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কিশোরদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও মূল্যবোধ প্রদান করা হলে তারা সমাজের সম্পদ হয়ে উঠবে। আজকের কিশোররাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে। আসুন সবাই মিলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই।
লেখকঃ সমাজকর্মী, গবেষক, কলাম লেখক এবং একজন সরকারি কর্মচারী।
