
ফিলিস্তিনে গাজার জনগণ এবং ইরানের মিনাব স্কুলের শিশুছাত্রীদের ওপর সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ মাথায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে চলমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আনীত যুদ্ধাপরাধ কিংবা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গণহত্যার অভিযোগে ঘোষিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কোথাও কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে আনীত জাতিসংঘের অপরাধ কমিশনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প তার সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত ভাষণে এবারও কিউবা, ইরান, মেক্সিকোসহ অনেক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রকে একের পর এক হুমকি দিয়ে গেছেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় সংঘটিত গণহত্যার জন্য দ্য হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধাচারণ করে সে আদালতের অর্থ সাহায্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। সে অবস্থায়ও নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলতি ৮১তম অধিবেশনে তার সব সদস্যকে বিনা প্রতিবাদে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫০টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের বর্তমান স্থায়ী সদস্য সংখ্যা ১৯০। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ৮১ বছরে জাতিসংঘের উপস্থিতিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী কার্যকলাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার সহযোগী ইসরায়েলের বেআইনি ও সম্পূর্ণ মানবতাবিরোধী কার্যকলাপই বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কাক্সিক্ষত শান্তি কিংবা সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়নি। ফিলিস্তিন সমস্যার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ কিংবা সুদানে বিরাজিত অরাজকতাসহ কোনো সমস্যারই সমাধান হয়নি।
বিগত ১০ বছরে প্যারিসে স্বাক্ষরিত পরিবেশ রক্ষার চুক্তি থেকে শুরু করে ২৫ বছর আগে বর্ণবাদ নিরসন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় স্বাক্ষরিত ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মসূচি’-কোনোটিরই কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্যারিস পরিবেশ ও জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেছে। ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে কোনো সমস্যারই সমাধান দিতে পারেননি। যুদ্ধবিগ্রহ ও দাঙ্গাহাঙ্গামা বন্ধের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তা দিনদিন আরও ব্যাপকতা লাভ করেছে। সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি ইহুদিবাদী অপশক্তির জন্ম দিয়ে তাকে লালন-পালন করে এখন আধুনিক যুগের এক ফ্রাঙ্কেস্টাইনে পরিণত করেছে। তবুও ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর স্বেচ্ছাচারিতা এবং আধিপত্যবাদী কার্যকলাপ বন্ধ হচ্ছে না। এ অবস্থায় জাতিসংঘ কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি কিংবা আইসিজে) সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছে তাদের কার্যকারিতা। ট্রাম্প যখন-তখন এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার চীন ছাড়া আর বিশেষ কোনো শক্তি নেই। সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও বিশেষ করে তার আধিপত্যবাদী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, প্যারিস পরিবেশ ও জলবায়ু চুক্তির কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তার প্রয়োজন শুধু একচ্ছত্র আধিপত্য বা ক্ষমতা। জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধিরা, বিশেষ করে ব্রিটেন ও ফ্রান্স, এখন অর্থনৈতিক সমস্যা ও জ্বালানিসংকটে কাবু হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কোনো বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই তাদের। তাহলে ট্রাম্পের নিত্যনতুন অবরোধের মুখে পড়বে তারা। প্রয়োজন হলে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেবেন ট্রাম্প, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো থেকেও তার হাত গুটিয়ে নেবেন তিনি। এ অবস্থায় বিশ্বের সমস্যাজর্জরিত ও শান্তিকামী মানুষের কাছে জাতিসংঘের কার্যকারিতা কতটুকু রয়েছে? সে কারণে নতুন করে জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে ভাবনাচিন্তার সময় এসেছে। জাতিসংঘের নামসর্বস্ব কার্যক্রম বন্ধ করে অবিলম্বে এটিকে একটি নিরপেক্ষ স্থান ও অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীতে সদর দপ্তর হওয়ায় মার্কিনি ও ইহুদিরা মনে করে জাতিসংঘ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। সে কারণে জাতিসংঘের স্বীকৃতি লাভ করা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের মাহমুদ আব্বাসকে এবারও গতবারসহ দুবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়নি।
পঞ্চাশের দশকে সূচিত শীতল যুদ্ধের অবসানের পর কিংবা নব্বইয়ের সূচনায় সোভিয়েত পদ্ধতির অবসানের পর থেকে এ বিশাল বিশ্ব কিংবা বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণ ক্ষমতার একাধিক ভরকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় ব্রতী হয়েছে। কারণ তাদের জনসংখ্যার উত্তরোত্তর চাপ, কর্মসংস্থানের চাহিদা, উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি-বাণিজ্যের আবশ্যকতা উন্নয়নশীল বিশ্বকে এক নতুন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। সে অবস্থায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কিংবা ইহুদিবাদী আধিপত্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বৈশ্বিক দক্ষিণ কিংবা উন্নয়নশীল বিশ্বকে কিছুই দিতে পারবে না। এ অবস্থায় অত্যন্ত বেশি প্রয়োজন আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক তৎপরতা, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ। তার পাশাপাশি জ্বালানি সম্পদের যথাযোগ্য ব্যবহার। এমন একটি পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠা, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বাজারব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চীন কিংবা বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতাদের চিন্তাচেতনা, উদ্যোগ, অর্থনৈতিক ও সুচিন্তিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত আবশ্যক বা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুঁজিবাদী চক্রান্ত কিংবা অর্থনৈতিক অবরোধ জারির নিত্যনতুন মহড়া আমাদের কোনো কাজে আসবে না। এসব পরিহার করে যত দ্রুত নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় ততই মঙ্গল। এ ক্ষেত্রে কোনো বৃহৎ শক্তির ছত্রছায়া কিংবা সামরিক শক্তি দিয়ে বৃহৎ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে না। তার জন্য চাই আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল গড়ে তোলার মধ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কিছুটা স্বার্থ থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু তাতে বৈশ্বিক দক্ষিণের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কীভাবে অর্জিত হতে পারে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক শক্তিকে আবার পুনর্গঠিত করার জন্য জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এমনকি পশ্চিমা সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ন্যাটো গড়ে তোলার যে চাহিদা ছিল তা অনুন্নত কিংবা উন্নয়নশীল বিশ্বের বিশেষ কোনো কাজে আসেনি। এ ক্ষেত্রে আধুনিক বাজার অর্থনীতি কিছুটা সহায়ক হলেও সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী পশ্চিমা শক্তিগুলো তাকে বিপথগামী করেছে। তার সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবেশ বিপর্যয় এবং এমনকি করোনার মতো মহামারিও উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য যথেষ্ট বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। সে কারণেই বৈশ্বিক দক্ষিণ কিংবা উন্নয়নশীল বিশ্বের অধিক প্রয়োজন আঞ্চলিক জোট, সহযোগিতা ও ক্ষমতার বিভিন্ন ভরকেন্দ্র বা বলয় সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মতো বিশাল আন্তর্জাতিক সংস্থাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এখন আর বিশেষ কোনো কাজে আসছে না। এর অন্যতম প্রধান কারণ জাতিসংঘের সাধারণ সদস্যদের আধিক্য। জাতিসংঘের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে চীন ও রাশিয়াকে বাদ দিলে বাদবাকিরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়নক। সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রের তাঁবেদারি করা ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ নেই। তারা ইহুদিবাদী ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শান্তি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ করে না। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের কাছে জাতিসংঘের আর তেমন কোনো প্রয়োজন নেই।
ওপরে উল্লিখিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী চাপের মুখেও জাতিসংঘ সাধারণ সদস্য রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে যেসব কাজ করে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-নিরবচ্ছিন্ন বা ধরে রাখার মতো উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ (এসডিজি)। বিশ্বব্যাপী জাতীয় পর্যায়ে বার্ষিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এটি একটি কর্মসূচি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব এ নির্ধারিত কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেছেন। প্রতি বছরই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। বিভিন্ন বৈশ্বিক বাধাবিপত্তি কিংবা বিভিন্ন বিপর্যয়ের মুখেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ তাদের চিন্তক কিংবা পরামর্শকদের দিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকে। তা ছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। ওপরে উল্লিখিত এসডিজি কর্মসূচিটি জাতিসংঘের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিংবা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ মহলের প্রশংসা অর্জন করেছে। এরপর রয়েছে জাতিসংঘের আরেকটি বিশেষ কর্মসূচি, যাকে বলা হয় প্যারিস পরিবেশ ও জলবায়ু ঘোষণা বা চুক্তি। এখন থেকে ১০ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৫ সালে বিশ্বকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে প্যারিসে এ চুক্তি প্রণীত হয়েছিল, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র (ট্রাম্প) এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে। কারণ, বিশ্বের আবহাওয়া, জলবায়ু ও পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে তারা বিশেষভাবে অর্থকড়ি খরচ করতে চায় না। তারা এ সমস্যাকে তাদের নিজের বিরাট সমস্যা বলে মনে করে না। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে দেখা দেওয়া যুদ্ধবিগ্রহ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কিংবা শান্তি প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখার জন্য জাতিসংঘ নিরলসভাবে কাজ করে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ থেকে শুরু করে শরণার্থী পুনর্বাসন ও তাদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ যথেষ্ট কাজ করে। কিন্তু তার প্রায় বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন পছন্দ করে না। সমগ্র গাজা উপত্যকায় নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কাজ করা জাতিসংঘের জন্য অসম্ভব করে তুলেছিল ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও তার সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইয়েল মনে করে জাতিসংঘ তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের পক্ষে কোনো গঠনমূলক বা সৃষ্টিশীল কাজ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওপরে উল্লিখিত বিভিন্ন কারণে বিশ্ববাসীর এখন প্রয়োজন এমন একটি বিশ্ব সংস্থা, যা প্রকৃত অর্থেই নিরপেক্ষ, কার্যকর, সম্পদশালী এবং বিভিন্ন পরাশক্তির নিয়ন্ত্রণমুক্ত। কোনো সাম্রাজ্যবাদী বা পরাশক্তির স্বার্থসিদ্ধি কিংবা তাঁবেদারি করতে গেলে যে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাই তার চরিত্র হারাবে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে জনগোষ্ঠীর মূল স্রোত থেকে। এ অবস্থায় আজ প্রয়োজন এমন একটি বিশ্বসংস্থা, যা গড়ে উঠবে সম্পূর্ণ নতুন ঘোষণাপত্র ও ভাবধারায়। তাকে হতে হবে সাধ্যমতো নিয়ন্ত্রণমুক্ত, স্বাধীন ও জনগণের বা বিশ্ব মানবতার কল্যাণে সম্পূর্ণ নিবেদিত। সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিতর্কিত মানুষের কোনো স্থান হবে না। বিশ্ববাসী সে সংস্থার কাছে পাবে বিভিন্ন সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান ও প্রকৃত অর্থেই দেখতে পাবে আশার আলো, মুক্তির পথ।
লেখক: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
