বর্ষায় জমে থাকা হাঁটু জল আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার ঝাপটা, কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার নৈরপাড়-এলখাল সড়কের এই দীর্ঘদিনের ছবিটা এবার বদলাতে চলেছে। অবসান ঘটতে যাচ্ছে হাজারো মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের। স্থানীয়দের প্রাণের দাবি মেনে অবশেষে শুরু হলো বহুকাঙ্খিত এই সড়কটির আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কাজ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের হাটাশ গ্রামে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই সড়ক উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সিআইডিপি প্রকল্পের আওতাধীন এই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এমপি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর 'কুমিল্লা-৩ গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প'-এর অধীনে এই বৃহৎ উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের ১১৮৬ মিটার থেকে ৩১৮৬ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে নতুন রূপ দেওয়া হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কটি সংস্কারের মুখ দেখায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখন বইছে আনন্দের হাওয়া। কাজ শেষ হলে বাঙ্গরা উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ সুগম হবে মালিপাড়া, পূর্বধইর, নৈরপাড় ও মহেশপুর গ্রামগুলোর।
সড়কটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হোসেন, বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি শফিউল আলম, উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী গৌরাঙ্গ দেবনাথ, বিএনপি নেতা এস এম শরীফ এবং পূর্বধইর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম পারভেজ।
এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুহেল সামাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জয়নাল মোল্লা, নবীয়াবাদ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বদিউল আলমসহ অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যাংকার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
উদ্বোধন শেষে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সড়কটির রূপ পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। প্রান্তিক চাষিরা তাদের উৎপাদিত পচনশীল কৃষিপণ্য খুব সহজেই কম খরচে বাজারে পৌঁছাতে পারবেন। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় স্বস্তি মিলবে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীদের। তবে কাজের সুফল পেতে এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই কাজের উচ্চমান বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
