রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুড়িচং মাশসরা ঐতিহ্যবাহী রেজভীয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক ‘মিথ্যা-বানোয়াট’ অপ্রচারের অভিযোগ
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ এএম আপডেট: ২০.০৯.২০২৬ ২:১১ এএম |

 বুড়িচং মাশসরা ঐতিহ্যবাহী রেজভীয়া  হোসাইনীয়া দরবার শরীফের বিরুদ্ধে  ষড়যন্ত্র মূলক ‘মিথ্যা-বানোয়াট’  অপ্রচারের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক।। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ফকির বাজার মাশরা রেজভীয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও প্রতিহিংসামূলক বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে দরবার শরীফের আশেকান ও দরবার শরীফের মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ আশ্ররাফুল হক তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আশ্ররাফুল হক লিখিত বক্তব্যে বলেন, একটি জমি ও চলাচলের রাস্তার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি ষড়যন্ত্র কারী কুচক্রী মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে রেজভীয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় ৩-৪ বছর আগে মৃত কাজী লুৎফুর রহমান গং ও সফিক খন্দকারের মধ্যে জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সময় মৃত ফয়েজ আহম্মদ মেম্বার, অ্যাডভোকেট কাজী আবু তাহের, অ্যাডভোকেট মামুন, তারেক খন্দকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ার-কাজী লুৎফুর রহমান গংয়ের পক্ষে সার্ভেয়ার কাজী মাজহারুল এবং সফিক খন্দকারের পক্ষে সার্ভেয়ার কাজী শাহজাহান মাস্টার-প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে মাপজোখ করে জমি ও রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, মাপজোখের পর মোহাম্মদ শাহীন মাস্টার নিজ উদ্যোগে গাছপালা কেটে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে খারেরা, কাঞ্চনপুর, পিতাম্বরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকেরা ওই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে আসছেন।
বক্তারা আরও দাবি করেন, শাহীন মাস্টারের অভিযোগের পর বুড়িচং থানার এসআই রাকিব দুই দফা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র পর্যালোচনা করেন। তাদের দাবি, দলিলপত্র পর্যালোচনায় শাহীন মাস্টারের ক্রয়কৃত জায়গার অবস্থান রাস্তার পশ্চিম পাশে নির্ধারিত হয়। একই এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ওই রাস্তা কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে একটি কালভার্টও নির্মাণ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তবে কালভার্টটি রাস্তার জায়গার তুলনায় কিছুটা পূর্ব পাশে হওয়ায় জনগণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে নিজেদের ক্রয়কৃত জায়গা থেকে রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কয়েকজনের পরামর্শে শাহীন আহম্মেদ মাস্টার সংবাদকর্মীসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে চলাচলের রাস্তায় টিনের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার লোকজন তার সঙ্গে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে দক্ষ সার্ভেয়ার দিয়ে পুনরায় মাপজোখের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তখন বেড়া সরিয়ে নেওয়া হয়।
বক্তাদের অভিযোগ, এরপর বিষয়টি সমাধানের জন্য আর কোনো বৈঠকে বসা হয়নি। এরই মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অসুস্থতাজনিত কারণে শাহীন আহম্মেদ মাস্টারের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ১ আগস্টের ঘটনাকে তার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো শুধু অনৈতিক নয়, অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তাদের দাবি, শাহীন মাস্টার অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন; তাকে আঘাত করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে-এমন প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বক্তারা আরও বলেন, একটি অনলাইন ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি নানা ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে শুধু একটি ঘটনার বিষয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে না, বরং রেজভীয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
“সত্যকে আড়াল করে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান বা মানুষের সম্মান নষ্ট করার অধিকার কারও নেই”- এমন বক্তব্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি ও রাস্তার প্রকৃত মালিকানা এবং ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। তাদের দাবি, উক্ত জায়গাটি সরকারের খাস জমি এবং বহু বছর ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধ, প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, সত্য উদঘাটনের জন্য তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।
ভাই, এই সংস্করণে “মৃত্যুর কারণ” বা “আঘাতের অভিযোগ”কে নিশ্চিত সত্য হিসেবে না লিখে সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবে রাখা হয়েছে-এতে নিউজটি একদিকে তীব্র ও শক্তিশালী হয়েছে, অন্যদিকে সাংবাদিকতার দিক থেকেও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য থাকবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২