
তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তুলে এনে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে শুরু হয়েছে ৪০ দিনব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ থেকে বাছাই করা ৩০৬ জন উদীয়মান ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছেন এই ক্যাম্পে।
বিকেএসপির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা তরুণ ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।”
নিজের জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তরুণদের দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুধু ৪০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্যাম্প থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে বিকেএসপি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও মনিটরিং অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
খেলাধুলার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের শিক্ষাজীবনও যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিকেএসপির মাধ্যমে উন্নত ক্রীড়া প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে আরো শক্তিশালী করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। খেলোয়াড়দের সামাজিক ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে ক্রীড়া ভাতা চালু এবং বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ দেওয়ার কথা জানান তিনি।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের এই ৩০৬ উদীয়মান ক্রীড়াবিদকে দেশের ক্রীড়ার ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, তাদের মধ্য থেকেই আগামী দিনে জাতীয় দলের কাণ্ডারিরা উঠে আসবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে পরিবার ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন এসব তরুণ ক্রীড়াবিদ, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
