পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘরের উঠানেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নই গ্রামের আনোয়ার হোসেন মেম্বারকে। গত ১৩ রবিবার সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এখন বের হতে শুরু করেছে। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া এজাহারনামীয় অন্যতম পলাতক আসামি পিন্টু মিয়াকে (৪২) গ্রেফতারপূর্বক বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ভোররাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত পিন্টু মিয়া উত্তর পেন্নই গ্রামের মৃত ধবীর মুন্সির ছেলে।
মামলা ও স্থান সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আনোয়ার মেম্বারের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। শত আকুতি সত্ত্বেও তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতকরা। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধীদের গ্রেফতারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে জেলা পুলিশ। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ নিবিড় ছায়াতদন্ত ও ছায়া নজরদারি শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত পিন্টু মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার স্বীকারোক্তি থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিউল আলম দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে জানান, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের আইনের আওতায় আনতে এবং সার্বিক রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিমের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
