আর মাত্র এক মাস পরই কোলে আসার কথা ছিল প্রথম সন্তান। পরিবারজুড়ে চলছিল নতুন অতিথিকে বরণের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কিন্তু ঘাতক ডেঙ্গু সেই আনন্দ এক নিমিষেই কাড়ে নিল। অনাগত সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর আগেই চলে যেতে হলো মা নূরজাহানকে (২১)।
বুধবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নূরজাহান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের আব্দুল সালামের মেয়ে এবং মুরাদনগর উপজেলার মোচাগড়া গ্রামের জোবায়ের হোসেনের স্ত্রী। দেড় বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নূরজাহান ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গত শুক্রবার তাঁর সামান্য জ্বর আসে। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে কুমিল্লায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় বুধবার ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
নূরজাহানের স্বামী জোবায়ের হোসেন বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, "আগামী মাসে আমাদের প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা ছিল। একটি ভুল হিসাব আমাদের সব স্বপ্ন শেষ করে দিল।"
সহপাঠী ও শিক্ষকরা জানায়, নূরজাহান অত্যন্ত মেধাবী, সৃজনশীল ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভাগের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন তিনি।
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মশিউর রহমান ভূঞা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, "নূরজাহান আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ও সম্ভাবনাময় ছাত্রী ছিল। তার এমন অকাল মৃত্যুতে আমরা পুরো বিভাগ ব্যথিত ও স্তব্ধ।"
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা শোক বার্তায় বলেন, "একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এই অকাল প্রয়াণ সত্যিই মর্মান্তিক। আমরা ভিক্টোরিয়া কলেজ পরিবার তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।"
বুধবার বাদ জোহর মুরাদনগর উপজেলার মোচাগড়া গ্রামে নূরজাহানের স্বামীর বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল, সহপাঠী ও সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
