আলমগীর হোসেন।।
দাউদকান্দির গৌরীপুরে গ্যাসের লিকেজ থেকে লাগা আগুনে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন ফারহানা (৩৪) এবং তাঁর দুই ছেলে ওয়ালিদ (১৪) ও খালিদ (৮)। বর্তমানে তাঁরা ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মশা মারার জন্য ইলেকট্রিক র্যাকেট ব্যবহার করলে সেটি থেকে সৃষ্ট স্পার্কে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এতে ঘরে থাকা ফারহানা ও তাঁর দুই ছেলে দগ্ধ হন।
দগ্ধদের প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৌরীপুর নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাত ৩টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় একই পরিবারের তিনজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে ওয়ালিদের শরীরের ১০ শতাংশ, ফারহানার ৫ শতাংশ এবং খালিদের ৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
দগ্ধ ফারহানার স্বামী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তাঁদের ঘরের ভেতর দিয়ে গ্যাসের লাইনের একটি পাইপ অন্য একটি ঘরে নেওয়া হয়েছিল। ওই পাইপের লিকেজ থেকে মাঝেমধ্যে গ্যাস বের হতো।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আমাদের ঘরের ভেতরে বিকট গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ঠিক ওই সময় ঘরের ভেতরে থাকা মশা মারার জন্য আমার ছেলে ইলেকট্রিক র্যাকেট ব্যবহার করে। র্যাকেটের স্পার্ক থেকে মুহূর্তের মধ্যে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এতে ঘরে থাকা আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান দগ্ধ হয়।
