বারো বছরের সংসারজীবন, যার শেষটা হলো বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা নিথর দেহে। কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বামীর বাড়ি থেকে আয়শা আক্তার (২৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতন ও সর্বশেষ ৫ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে আয়শাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পালিয়ে গেছে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। মঙ্গলবার বিকেলে মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর এলাকা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আয়শা দেবিদ্বার উপজেলার গাংটিয়ারা গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সির মেয়ে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, ১২ বছর আগে পাহাড়পুর গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে আবদুল ওহাবের সঙ্গে আয়শার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে আয়শার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল ওহাব। সম্প্রতি কদিনের জন্য বাবার বাড়ি চলে যান আয়শা। পরে 'আর কোনো ঝগড়া হবে না'এমন অনুনয়-বিনয় ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্ত্রীকে আবার নিজের বাড়ি ফিরিয়ে আনেন ওহাব।
তবে স্বজনদের অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পরপরই আয়শার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা না দিলে আয়শাকে মেরে মাছের প্রজেক্টে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেয় ওহাব।
মৃত্যুর খবর পেয়ে আয়শার স্বজনরা পাহাড়পুরে ছুটে গিয়ে দেখেন, বাড়ির উঠানে পড়ে আছে আয়শার নিথর দেহ। অথচ গৃহবধূর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিল না। আয়শার ভাই জানায়, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। ওহাবের মোবাইলে বারবার কল দিলেও সে রিসিভ করেনি। শেষমেশ এক ছোট মেয়ে ফোন ধরে জানায় বাড়িতে কেউ নেই। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে জানান, "প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।"
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তারা থানায় পরিকল্পিত হত্যার মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমন রহস্যজনক মৃত্যু ও ঘটনার পর পুরো পরিবার গায়েব হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের একটাই দাবি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়।
