নিজস্ব প্রতিবেদক।।
‘বিএনপি সরকারের এই মেয়াদকালেই কুমিল্লার নামে বিভাগ ঘোষণা হবে’ জানিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নলেজে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা কুমিল্লাকে বিভাগ করতে চাননি, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় পথসভায় বলে গিয়েছেন, কুমিল্লা নামে বিভাগ যদি গণমানুষের চাওয়া হয়, তাহলে সেটি সময়মতো হবেই। সরকার বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের বৈশ্বিক সংকটে রয়েছে। সামনে আবার দুই-তিন মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তবে সুযোগমতো কুমিল্লার নামে বিভাগ ঘোষণা হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, পানি সম্পদমন্ত্রী উনি ওনার এলাকার জনগণের পক্ষে থাকতে হবে। তবে উনি বলেছেন, উনি কুমিল্লা বিভাগের বিপক্ষে না, উনি কুমিল্লা বিভাগের পাশাপাশি নোয়াখালী বিভাগও চান। সেটি উনি চাইতেই পারেন।
এর আগে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কুমিল্লার নামেই বিভাগ হবে, আরও উন্নয়নও হবে। দলকে শক্তিশালী করে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাব ইনশাআল্লাহ। আমরা কুমিল্লার মানুষ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নে পিছিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সেদিকে নজর নেই, আছি সারাদিন দলাদলিতে।
সরকারের বর্তমানে সময়টা একটি বৈরী আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র থাকুক, অনেকে চায় না। সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্যাস, বিদ্যুতের মতো বৈশ্বিক সংকটকে সামনে এনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা। অথচ ছয় মাসে সরকার যে পরিমাণ ভর্তুকি দিয়েছে গ্যাস এবং বিদ্যুৎ খাতে, তার সমপরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে কত এক মাসে।
তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের সরকার লড়াই করে যাচ্ছেন। বিগত সরকার দেশের ব্যাংকিং খাতকে খালি করে গেছেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট তৈরি করে গেছেন। আমাদেরকে একটু সময় দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ব্যাংকিং খাতকে চাঙ্গা করে তুলতে সরকার কাজ করছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, ১৭ কথা বলতে পারিনি, কোনো প্রোগ্রাম করতে পারিনি। পুলিশের হয়রানি, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছি। দেশে গণতন্ত্র বলতে কিছু ছিল না। ২৪ এর জুলাইয়ে অনেক রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে পেয়েছি। যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দেশ যখনই সংকটে পড়ে, দেশকে পুনরুদ্ধারে এগিয়ে আসে বিএনপি।
দেশে একজন মাত্র নেতাই আছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকল মতের ঊর্ধ্বে দেশকে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলের নেতা একজনই। দল শক্তিশালী মানেই সরকার শক্তিশালী। কৃষক, ফ্যামিলি কার্ডসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দ্বারে দ্বারে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। যাতে করে উপজেলা থেকে জেলা শহরে আসতে হবে না চিকিৎসাসেবা নিতে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমীরুজ্জামান আমীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে উদ্দেশ্য করে কুমিল্লার নামে বিভাগের দাবিতে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, আপনারা কুমিল্লার ৩ মন্ত্রী ও সকল সংসদ সদস্য মিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান। প্রয়োজনে আমরা টাউনহলে মহাসমাবেশ করব কুমিল্লার নামে বিভাগের দাবিতে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা ওয়াসার এমডি আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, কুমিল্লা বিভাগের দাবিতে কুমিল্লা জেলা বিএনপির সভাপতি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এ আন্দোলনের সারিতে আমরাও যুক্ত হয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমরা মন্ত্রীর নেতৃত্বে কুমিল্লার নামে বিভাগ বাস্তবায়ন ছাড়া ঘরে ফিরব না।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মুস্তাক মিয়া বলেন, কুমিল্লার নামেই বিভাগ হবে। কোনো ষড়যন্ত্রে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হবে না। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই কুমিল্লার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা হবে।
অনুষ্ঠানে এসময় বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ভিপি নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আক্তার হোসেন সহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।
