মো. হাবিবুর রহমান ঃ
বাঁশের
সাঁকো পেরিয়ে প্রতিদিনের জীবনের ঝুঁকি, কোমলমতি শিশুদের দেরিতে স্কুলে পা
রাখা আর এক নদীর ব্যবধানে থমকে থাকা উন্নয়নের দিন এবার শেষের পথে।
কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া
গ্রামের মধ্যবর্তী আরসি নদীর ওপর ৩ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে
বহুল কাঙ্খিত গার্ডার সেতু। রবিবার বিকেলে উৎসবমুখর পরিবেশে সেতুটির ছাদ
ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে পূরণ হতে চলেছে প্রায় ১০টি গ্রামের
মানুষের শত বছরের লালিত স্বপ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের
অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই সংযোগ সড়কটি
ধনপতিখোলা থেকে কালারাইয়া ও রোয়াচালা হয়ে সরাসরি দৌলতপুর প্রধান সড়কে যুক্ত
হয়েছে। এতদিন একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই ছিল শত শত মানুষের যাতায়াতের
একমাত্র ভরসা।
সেতুটির ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হওয়ায় আনন্দের বন্যা বইছে
নদীপাড়ের গ্রামগুলোতে। জীবনের সায়াহ্নে এসে স্বপ্নের সেতু সত্যি হতে দেখে
আবেগাপ্লুত এলাকার ৮৫ বছর বয়সী প্রবীণ বাসিন্দা হাজী তৈয়ব আলী। তিনি
অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "আমার জীবনের বড় আকাঙ্খা ছিল এই সেতুটি দেখে
যাওয়া। এতদিনে আমাদের দীর্ঘদিনের কাক্ষিত সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হচ্ছে।"
একই
অনুভূতির কথা জানান প্রবীণ গৃহবধূ হাসু রানী। তিনি বলেন, "আমার এই দীর্ঘ
বয়সে কত মেম্বার-চেয়ারম্যান দেখলাম, কেউ এই সেতুটা করে দিতে পারেনি। জীবনে
কোনোদিন ভাবিনি এই সেতু দেখে যেতে পারব।"
সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল কোমলমতি শিশুরা। স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন,
"অন্যান্য এলাকার শিশুরা ৫ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হলেও আমাদের এলাকার
সন্তানদের হেঁটে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা
করতে হতো। শিক্ষার দিক দিয়ে আমাদের সন্তানেরা পিছিয়ে পড়ছিল। এই সেতু তাদের
ভবিষ্যতের পথ সুগম করবে।" এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের সুবিধার কথা
তুলে ধরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কৃষক মজিবুর রহমান ও গৃহবধূ সুভা রানী
ঘোষসহ অনেকেই।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাহার খান
দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, "এলাকাবাসীর শত বছরের স্বপ্ন পূরণ করা আমার
দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকার ছিল। পূর্বে অনেকেই চেষ্টা করেও এটি করতে পারেননি।
মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ৩ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই স্বপ্নের প্রকল্প
বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এভাবেই মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ
করতে পারি, সেজন্য সবার দোয়া চাই।"
সেতুটির নির্মাণকাজ চূড়ান্তভাবে শেষ
হলে এই অঞ্চলের অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা ও
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সর্বস্তরের
স্থানীয় অধিবাসীরা।
