জাতীয়
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় আলোচনা সভা ও
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। কবির সাহিত্য, সংগীত ও সাম্যবাদী
চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে
বক্তারা নজরুলের অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও শোষণ-বিরোধী দর্শনের বিভিন্ন দিক
তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা
একাডেমিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের
পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজন এবং কুমিল্লা জেলা
প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউট
কুমিল্লা কেন্দ্রের যৌথ ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.
সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ
ভট্টাচার্য, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল,
কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবির, কুমিল্লা মহানগর জাসাসের
সাধারণ সম্পাদক শহিদুল সোহেল এবং কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ
রানা।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউট কুমিল্লা
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল আমিন । সভাপতিত্ব করেন জেলা
কালচারাল অফিসার এস এম টি কামরান হাসান।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন,
কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি ছিলেন মানবতা, সাম্য, প্রেম ও
অসাম্প্রদায়িকতার কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে অন্যায়, শোষণ, নিপীড়ন ও
বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পাশাপাশি মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার
প্রকাশ ঘটেছে। বর্তমান সমাজে নজরুলের আদর্শ ও সৃষ্টিকর্মের প্রাসঙ্গিকতা
আরও বেশি।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে
সংগীত পরিবেশন করেন ইশতিয়াক আহমেদ পল্লব, ইকরামুল হক, শিউলী রায়, বাবুল
কৃষ্ণ বিশ্বাস, ও পুষ্পিতা বণিক মৌ। এছাড়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি কুমিল্লা
এবং কবি নজরুল ইনস্টিটিউট কুমিল্লা কেন্দ্রের প্রশিক্ষণার্থীরা নজরুলের গান
ও কবিতা পরিবেশন করেন।
উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রয়াণের
৫০ বছর পরও বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে তাঁর সৃষ্টির আবেদন অমলিন।
প্রতিবছর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশে জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস পালিত হয়ে
আসছে।
