
কুমিল্লা
মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে রোগী ভর্তি নিয়ে হয়রানি, বেসরকারি
হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে পরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও
রোগীদের বাইরে পাঠানো এবং নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া ও রোগী-স্বজনদের
সঙ্গে দুর্ব্যবহার। শুধু তাই নয়, ওয়ার্ড ইনচার্জদের নির্দিষ্ট সময় পরপর
দায়িত্ব পরিবর্তনের নিয়মও মানা হচ্ছে না। কোনো কোনো নার্স একই ওয়ার্ডে টানা
চার থেকে ছয় বছর দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল শুক্রবার হাসপাতাল এলাকায় গিয়ে
রোগী, রোগীর স্বজন, হাসপাতালের স্টাফ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য
পাওয়া গিয়েছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগকে ঘিরে
একটি চক্র সক্রিয়। এ চক্রের সঙ্গে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক
সেন্টারের প্রতিনিধিদের যোগসাজশ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সুলতানা নামের এক রোগী
ভর্তি হওয়া নিয়েও চরম ভোগান্তিতে পরতে হয়েছে। রোগীর ভাষ্য ভর্তি
করাকেকেন্দ্র করে একাধিকবার হাসপাতালের পঞ্চম তলা ও নিচতলায় পাঠানো হয়। পরে
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তার ভর্তি সম্পন্ন হয়। রোগীর এক আত্মীয়
মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন জানিয়ে ফোন করার পর ভর্তি নিশ্চিত হয়
করতে হয়।
এ সময় হাসপাতালের স্টাফ রনজিতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের
অভিযোগ ওঠে। তবে ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে না থাকা ইনচার্জ ফরহাদ হোসেন পরে
হাসপাতালে গিয়ে রোগীকে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে
রোগী ভর্তি করবেন চিকিৎসক। জরুরি বিভাগ থেকে আমরা শুধু টিকিট করি।
অন্যদিকে
একাধিক রোগী ও রোগীর স্বজনের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে, কুমেক হাসপাতাল
থেকে অনেক সময় রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বলা হয়। হাসপাতালের ভেতরে
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকলেও কিছু রোগীকে নির্দিষ্ট
ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। এমনকি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য
জায়গার রিপোর্ট গ্রহণ করা হয়না। এসব পরীক্ষার বিপরীতে কমিশন বা উপহার দেওয়া
হয়। জরুরি বিভাগে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া, সার্টিফিকেটের
নামে অর্থ আদায় এবং রোগী-স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।
নার্সদের
দায়িত্ব বণ্টনেও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি
অধিদপ্তরের ২০২০ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ওয়ার্ড ইনচার্জদের দায়িত্বের
মেয়াদ দুই বছর। অথচ কুমেক হাসপাতালে কেউ কেউ বছরের পর বছর একই ওয়ার্ডে
দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক
(ভারপ্রাপ্ত) ডা. শাহজাহান বলেন, হাসপাতালে কে কোথায় কী করছে, তা একজন
পরিচালকের পক্ষে একা দেখা সম্ভব নয়। আবার অনিয়ম হয় না, এটিও বলতে পারব না।
সুলতানার ভর্তি জটিলতাকে তিনি সমন্বয়হীনতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রোগীকে
হয়রানি করা বা ভর্তি দিতে গড়িমসি করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাম্য নয়।
রোগী
ও স্বজনদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জরুরি বিভাগে কঠোর নজরদারি,
নির্ধারিত ফি প্রকাশ এবং অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
হোক। একই সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে পরীক্ষা থাকার পরও রোগীদের বাইরে পাঠানোর
অভিযোগেরও তদন্ত চান তারা।
