দেবিদ্বার
প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বারে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর শরীরের
স্পর্শকাতরস্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে
পুলিশ। শুক্রবার (২১) দুুপুর ২টার দিকে আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে কারাগারে
পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া
বটতলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই শিক্ষকের নাম মো.
খোরশেদ আলম (৫০)। তিনি ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের মৃত শব্দর আলীর ছেলে এবং ১১৫
নম্বর ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
মামলা
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই দুপুরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে
১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর শরীরে স্পর্ষকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে
শিক্ষক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তার মাকে জানালে
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে বেধড়ক মারধর করে পিছমোড়া হাত বেঁধে একটি দোকানে
আটকে রাখে। খবর পেয়ে ওই দিন রাত ১১টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ তাকে
উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনার পর ২৮ জুলাই
ওই ছাত্রীর দাদা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দেবিদ্বার থানায়
মামলা করেন। পরবর্তীতে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর
২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিজের অপরাধ স্বীকার করে
এলাকাবাসীর কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে। ওই শিক্ষার্থী জানায়,
ওই শিক্ষক একাধিকবার তার শরীরে হাত দিয়েছেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে
ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষক খোরশেদ আলমের ওপর হামলার ঘটনায় তার
ছেলে আরিফ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০-২৫ জনকে আসামি করে
থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আসামিরা গত ৯ আগস্ট
আদালত থেকে জামিন পান। শিক্ষক সমিতির নেতারাও ওই হামলার প্রতিবাদে
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক
আত্মগোপনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে
ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি
প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
